Wednesday, 28 September, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয় : প্রধানমন্ত্রী

বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

বার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশে শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাজ্যে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক শাসকেরা দীর্ঘদিন দেশ শাসন করেছেন। আর এখন তারা রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন। কিন্তু তারা ভোট চাইতে কখনও দেশের জনগণের কাছে যাননি। তারা সেনাবাহিনী, প্রশাসনকে ব্যবহার করেছেন ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কিন্তু আমি নিজেই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছি।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, ‘১৯৭৫ সালে আমার বাবা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের ১৮ সদস্যকে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে ২১ বছর যাবৎ দেশে বারবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। প্রায় ২০ বার সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে এবং প্রতিবার এতে রক্তপাত হয়েছে। দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না, গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল না। আমি আমার দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি।’

রবিবার প্রচারিত সাক্ষাৎকারে গুমের অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের কথা তোলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন গুম নিয়ে অনেকেই অভিযোগ তুলতে পারেন। কিন্তু তা কতটা সত্য তা আপনাদেরই বিচার করতে হবে। তা জানার আগে কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।’

আপনার এবং বাংলাদেশের কাছে কমনওয়েলথের গুরুত্ব কতটা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই এটির গুরুত্ব রয়েছে। আমরা যখন একসঙ্গে থাকি, সেখানে অনেক সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া এটি আরও কিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের জন্য এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা আমাদের মতামত বিনিময় করতে পারি, কিছু নতুন ধারণা গ্রহণ করতে পারি। পাশাপাশি দেশ ও জনগণের জন্য কিছু ভালো সুযোগ করে দিতে পারি। বর্তমানে কোনো দেশ একা বেশিদূর যেতে পারে না। কারণ বর্তমান বিশ্ব পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য কমনওয়েলথের গুরুত্ব অনেক।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৬১ সালে রানী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সফর করেছিলেন। তখন ব্যক্তিগতভাবে রানীকে প্রথমবার দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা তখন খুব ছোট ছিলাম। আমার বাবার (বঙ্গবন্ধুর) অফিসে গিয়েছিলাম আমি। কারণ আমরা জানতাম তিনি (রানী) ওই রাস্তা দিয়ে যাবেন। তাই আমার পুরো পরিবার দুরবিন নিয়ে জানালায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। যাতে আমরা তাকে আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাই।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিটি কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে রানীর সঙ্গে দেখা করেছি। আমি প্রায় সাতটি কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। প্রতিবার আমি তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আর অলিম্পিক গেমসের সময়ও তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং আমি এসেছিলাম। সেটি খুব ভালো একটি সুযোগ ছিল। আমরা লম্বা সময় আলোচনা করেছিলাম তখন।’

প্রয়াত রানীর সঙ্গে সুন্দর স্মৃতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রানীর স্মৃতিশক্তি ছিল চমৎকার। তিনি কমনওয়েলথ সম্মেলনে গিয়ে আমাকে দেখতে না পেলে আমার খোঁজ নিতেন, আমি কোথায় তা জানতে চাইতেন। তিনি যে যুক্তরাজ্যের সত্যি অর্থেই একজন রানী, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭০ বছরের এ রাজশাসক কেবল একজন রানীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহময়ী ও মাতৃত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। যখনই আমি তার সাহচর্যে এসেছি তখনই তা অনুভব করেছি।’

 

Developed by :