Monday, 15 July, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




তেরেসা মে থেকে ইনজামাম

জাকির হোসেন, লন্ডন থেকে।।

লন্ডনে এসেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দর্শন। সৌভাগ্যই বলতে হবে। যেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ঢুকতেই পারছিলাম না, সেখানে সরাসরি সংসদ অধিবেশনে তেরেসা মের উপস্থিতিতে পার্লামেন্টারি ডিবেট দেখা। কীভাবে যেন মিলে গেল ব্যাপারটা।

বুধবার দুপুর ১২টা। ওয়েস্টমিনস্টার নেমেই আমাদের প্রথম টার্গেট পার্লামেন্টে ঢোকা। সঙ্গে আরও দু’জন সাংবাদিক। ঢোকার পথে শুরুতেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি সাতসতেরো বলে নিরুৎসাহিত করল। আমরা তো নাছোড়বান্দা। যাই হোক, নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে ভেতরে ঢুকলাম। প্রথমে শুনলাম, প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে গেছেন। তবে না, ভুল শুনেছিলাম। সংসদ কক্ষে ঢুকেই দেখি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তেরেসা মে। গত সপ্তাহে জাপানের ওসাকায় জি-২০-এর বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। জি-২০ এবং ইইউ নেতৃত্ব বিষয়ে কিছুক্ষণ আগে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তার ওপর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংসদকে জানালেন, বাণিজ্যযুদ্ধ, বিভিন্ন বিষয়ে বৈশ্বিক টেনশন বা উত্তেজনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে এবারের জি-২০ সম্মেলনে। ব্রেক্সিট বিষয়েও দু-চারটা কথাবার্তা হলো। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তেরেসা মে ব্রেক্সিট ইস্যুতে বেশ চাপে আছেন।

পার্লামেন্টের আলোচনা ছিল প্রাণবন্ত। কিছুটা বুঝলাম। কিছুটা বুঝলাম না বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত না থাকার কারণে। সবচেয়ে মজা পেলাম, যখন দেখলাম, সংসদের স্পিকার গ্রামের সালিশের মোড়লদের মতো পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছেন। একবার দেখলাম গ্যালারিতে এক নারীর কোলে বসা শিশুর দিকে হাত দিয়ে কী যেন ইশারা দিলেন। পরিবেশটা খুবই ইনফরমাল মনে হলো। ডিবেট দেখলাম। বের হয়ে গেলাম পাশেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন দেখতে। গেটে বেশ বড়সড়ো ঘোড়ার ওপর তরবারি হাতে বসে আছেন এক তরুণী। ছবি তুলছি- হঠাৎ দেখলাম প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গাড়ি ঢুকল তার বাসভবনে।

এরপর সারাদিন ঘোরাঘুরি। বাকিংহাম প্যালেস, টাওয়ার ব্রিজ, লন্ডন ব্রিজ, ন্যাশনাল গ্যালারি ট্রাফালগার স্কয়ার- এসব জায়গায় ঘুরলাম। ভেতরে না ঢুকলেও ছবি তুললাম লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে। হাঁটছি তো হাঁটছি। ওয়েস্টমিনস্টার থেকে হাঁটা শুরু করে নানা দর্শনীয় স্থান ঘুরে যাচ্ছি ব্রিকলেন, বাঙালিপাড়ায়। লিভারপুল আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের কাছেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন ইনজামাম-উল হক। গাড়িতে উঠবেন, তার সঙ্গে থাকা দু’জন পেছনের ক্যারিয়ারে কিছু একটা ওঠাচ্ছেন। আমি চিনতে পারিনি। সহযাত্রীদের একজন চিনতে পারলেন। ছবি তোলার অনুরোধ করতেই রাজি হলেন পাকিস্তান জাতীয় দলের সাবেক এই নামকরা ক্রিকেটার। বর্তমানে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক। ছবি তোলার পর আমাদেরই একজন ইনজামামকে বলল, ‘তোমার দলের সঙ্গে আমরা জিতব আশা করছি। হেসে জবাব দিলেন, তোমরা নিজেদের দলের জয় প্রত্যাশা করবে- এটাই তো স্বাভাবিক। যেমন আমি আমার দলের বিজয় চাইছি।’ দেখা যাক, আজ লর্ডসে কার আশা পূরণ হয়? -সমকাল

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :