Tuesday, 20 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




টানা ৬ ঘণ্টা ধরে অনলাইনে গেইম খেলে কিশোরের মৃত্যু

বিনোদন ডেস্ক:  অনলাইন গেম পাবজির নেশায় পড়ে মৃত্যু ঘটল এক কিশোরের। ভারতের রাজস্থানের নাসিরবাদ শহরে এ ঘটনা ঘটে। টানা ৬ ঘণ্টা পাবজি গেম খেলে ১৬ বছরের এ কিশোর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, কিশোরটির নাম নাম ফুরকান কোরেশি। মধ্যপ্রদেশে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে বসে দ্বাদশ শ্রেণির এ শিক্ষার্থী।

মারা যাওয়ার আগে টানা ৬ ঘণ্টা ধরে পাবজি খেলছিল ফুরকান। খেলার মাঝে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মৃত্যু ফুরকানের।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। স্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অশোক জৈন বলেন, “ওকে যখন আমাদের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন ওর পাল্স কাজ করছিল না। গেম খেলার সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই উত্তেজনা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলে এ রকমটা ঘটে থাকে।” পাবজি নেশার একাধিক ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। লাগাতার গেমটি খেলতে খেলতে কখনো শারীরিক, কখনো মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অল্প বয়সী কিশোর থেকে তরুণরা।

গত মার্চে পাবজি খেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২০ বছরের এক যুবক। ভারতের তেলেঙ্গানার বাসিন্দা ওই যুবক টানা ৪৫ দিন পাবজি খেলছিলেন বলে জানা গেছে। একই মাসে পাবজি খেলতে খেলতে ভুলে পানির বদলে অ্যাসিড খেয়ে ফেলেছিলেন এক যুবক। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসার সময়েও মোবাইল স্ক্রিন থেকে চোখ সরাচ্ছিলেন না তিনি, এমনটা জানান চিকিৎসক। ভারতের মধ্যপ্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।

এ গেমের নেশা এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার এক তরুণ। এমনকি বাড়িতে ফেলে গিয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও। মালয়েশিয়ার এক শহরে এ ঘটনা ঘটে পাবজি গেম শিশুদের ওপর এমন ভয়ংকর প্রভাব ফেলেছে যে, এ নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। শেষপর্যন্ত একের পর একের অভিযোগে অনলাইন গেমটি বন্ধ করে দিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, চীনের টেনসেন্ট কোম্পানি পাবজি নামে এ গেম তৈরি করে। গেমটিতে একশ’ জন খেলোয়াড় পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধে নামে। সেখানে একমাত্র জীবিতই বিজয়ী। এককভাবে ছাড়াও দলীয়ভাবে এ গেম খেলা যায়। চীনের বাইরেই এ গেমটি ২০ কোটিরও বেশিবার ডাউনলোড হয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ৩ কোটি মানুষ এ গেমে সক্রিয় থাকে।

 

Developed by :