Saturday, 26 November, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে ১২৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৬৯ পরিবার

তিলপাড়া ইউনিয়নের নন্দকিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: বিয়ানীবাজার উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এখানকার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বেশীরভাগ এলাকা পানির নীচে তলিয়ে আছে। উপজেলার প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিয়ানীবাজারে প্রতিদিন বাড়ছে প্লাবিত এলাকার পরিধি, সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্গত মানুষের সংখ্যা। পানিবন্দি হয়ে পাঠদান বন্ধ এখানকার ১২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এরমধ্যে ২৮টি প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে পানিবন্দি ১৪২ গ্রামের ৩৬৯ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় উপজেলার প্রায় সবক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে বিতরণের ধীরগতিতে এখনও অনেক দুর্গত এলাকার মানুষ সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোমান মিয়া বলেন, এখানকার ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতে বন্যার পানি হানা দিয়েছে। এরমধ্যে ২৩টিতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

নন্দকিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃশ্য

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান জানান, উপজেলার ৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা) মধ্যে ৩১টি বন্যার পানি ওঠেছে। অন্যগুলোর মধ্যে ৫টিতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

বন্যায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গবাদি পশু-পাখিও ক্ষতির শিকার হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনই জানাতে পারছেনা স্থানীয় প্রাণীসম্পদ কার্যালয়।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিক নূর জানান, বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাদের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে তাদেরকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বিদ্যালয় ভবনে আশ্রয় নেওয়ার আহŸান জানানো হচ্ছে।

 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :