Sunday, 26 June, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন: মসনদে বসছেন কে?

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: রাত পোহালেই বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন। মসনদে বসার লড়াইয়ের শেষ জরিপে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রতিবাদী মেয়র প্রার্থী জিএস ফারুকুল হক। সঞ্চিত ভোট ধরে রাখতে পারলেই জয় অনেকটা নিশ্চিত। তবে, তাকে পেছনে ফেলে জনপ্রতিনিধির মুকুট পড়তে চান তফজ্জুল হোসেন, আব্দুস শুকুর ও আব্দুস সামাদ। ইতিমধ্যে শ্রীধরা প্রত্যাখান করায় লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন ‘রাজাকারপুত্র’ আব্দুস সবুর (মোবাইল)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নির্বাচনে মেয়র হবেন দেশি না প্রবাসী; মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের না বিপক্ষের। এতোদিন এমন আলোচনা হলেও শেষ মুহূর্তে কিছুটা হলেও আঞ্চলিকতার টান পড়েছে। মেয়র থাকবেন দক্ষিণ, পশ্চিম না উত্তরে এ ইস্যুতে ভোটারদের দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে, রাজাকারপুত্র মেয়র হওয়ার স্বপ্নে গুড়েবালি দিয়েছে শ্রীধরা গ্রাম, বিএনপি-জামায়াত। তারা রাজাকারপুত্রকে সমর্থন দিয়ে অপমাণের বোঝা নিতে রাজি নয়। এক্ষত্রে ভোটের লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়েছেন আওয়ামী লীগের অপর বিদ্রোহী প্রার্থী হেলমেট প্রতীকের হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু।

জানা যায়, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ ’৯৪ এর জিএস ফারুকুল হক (চামচ), শহীদ পরিবারের সন্তান সাবেক পৌর প্রশাসক মো. তফজ্জুল হোসেন (জগ), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুস শুকুর (নৌকা), স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী প্রভাষক আব্দুস সামাদ আজাদ (হ্যাঙ্গার), মো. আব্দুস সবুর (মোবাইল), উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু (হেলমেট), আহবাব হোসেন সাজু (কম্পিউটার), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী এডভোকেট আবুল কাশেম (কাস্তে), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সুনাম উদ্দিন (লাঙ্গল), মো. অজি উদ্দিন।

কাল বুধবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ২৭ হাজার ৩৬৯ জন নারী-পুরুষ ভোট প্রয়োগ করবেন। তাতে ১০ মেয়র ও ৫৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী মজির উদ্দিন আনসার বলেন, গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ত সৃজনশীল মনের যেকোন প্রার্থীকে ভোটার বেছে নিতে পারেন। তবে উন্নয়নের বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া উচিত। যোগ্য প্রার্থী হলে দেশি না প্রবাসী এটি দেখার কোন সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা করছে। এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের কোন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে আত্মঘাতি ও লজ্জার। তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতি কোন প্রার্থীকে ভোট দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা সুজন’র সভাপতি এডভোকেট মো. আমান উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ খুবই সুন্দর। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ধারা বিরাজমান রয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করেন।

পৌর নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে মোট ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেন্দ্রে একজন এসআই এর নেতৃত্বে ৫ জন পুলিশ ও ৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমান টহলে নিয়োজিত থাকবে ২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও আনসার। গতকাল রাতে সিলেটের ডাক’কে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশিক নূর।

নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ কামাল হোসেন জানান, ইভিএম এর মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট করতে প্রতি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এতে শতাধিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তিনি জানান, আজ সকাল থেকে প্রিসাইডিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছানো হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন সৈয়দ কামাল হোসেন।

কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটের হিসেবে বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৩৫৪ ভোট, কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ২০০২ ভোট, কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৬৫৩ ভোট, খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬৬৭ ভোট, পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৩২৮৫ ভোট, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ২০৪৪ ভোট, বিয়ানীবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯২৮ ভোট, খাসাড়ীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬০৩ ভোট, নিদনপুর সুপাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩১৯৯ ভোট ও নিদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬৩৪ ভোট।

 


সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :