Sunday, 26 June, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে, টিটু’র ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: আর মাত্র ছয়দিন। সকল প্রার্থী জয়ের লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ মুহূর্তে কেউই পরাজয় শব্দটি উচ্চারণ করতে নারাজ। উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশায় রয়েছেন পৌরবাসী। গতকাল ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু।

আগামী ১৫ জুন প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন হবে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলেননি। আবার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অনেকের আশঙ্কা থাকলেও গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করায় এটিও অনেকটা দূর হয়েছে। এ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোন ধরণের সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

আঞ্চলিকতা ইস্যুতে মেয়র প্রার্থী ২-৩ জনকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে গ্রাম্য মোড়লরা কাজ করলেও কোন সুবিধা করতে পারছেন না বলে খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এজন্য পৌর নির্বাচনে একক কোন প্রার্থীর জয়ের সুষ্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

এদিকে, বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩ টায় পৌরশহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিক, কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের উপস্থিতিতে তিনি এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। প্রবাসীদের জন্য ‘এনআরবি সেন্টার’, শহরে সিসিটিভি, বিনোদন পার্ক, আইটি সেন্টার ও ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর উপর ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ করছেন হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু

এ সময় হেলমেট প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ টিটু বলেন, প্রবাসীদের অসামান্য অবদানের কারণে বিয়ানীবাজার আজ সমৃদ্ধ জনপদ। ক্ষুদে নবদ্বীপ খ্যাত এ জনপদের সন্তান হিসেবে সত্যিই আমরা সৌভাগ্যবান ও গর্বিত।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের খেদমত ও চাহিদানুযায়ী উন্নয়ন করার মানসিকতা নিয়ে মেয়র প্রার্থী হয়েছি। এরপর থেকে সব অঙ্গণের মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এজন্য আমি আশাবাদি, আল্লাহর হুকুমে বিজয়ী হবো। তিনি বলেন, পরিবর্তন, সুশাসনের জন্য জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি স্বাধীন পৌর পরিষদ গঠন হবে প্রথম কাজ। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব, আধুনিক ও ডিজিটাল বিয়ানীবাজার পৌরসভায় রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। তিনি নির্বাচনী কর্মকা-ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সহযোগিতায় করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ১৫ জুন তাঁর হেলমেট প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তাঁর সৃজনশীল নানা কর্মকা-ে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে বিয়ানীবাজার হবে উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতির বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুছ টিটু তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে নাগরিকদের রাষ্ট্রের সকল সুবিধা সহজপ্রাপ্তিতে পৌর পরিষদ থাকবে অঙ্গীকারাবদ্ধ, প্রবাসীদের সকল ধরণের সেবা ও সহযোগিতা করতে ‘এনআরবি সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা, উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে প্রত্যেক নাগরিককে ‘হেলথ কার্ড’ প্রদান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পৌর এলাকায় নিজস্ব আইটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসনে উন্নত টার্মিনাল ও পার্কিং জোন প্রতিষ্ঠা, কাঁচামাল, সবজি ও মৎস্য বাজারে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত, পৌরশহর থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝরেপড়া রোধ করতে শিক্ষাবৃত্তি চালু, পৌরশহরে শৌচাগার নির্মাণ করে দু’যুুগের ব্যর্থতার গ্লানি দূর করা, শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য ‘পার্ক’ নির্মাণ করা হবে।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার কোন অবস্থাতেই পিছিয়ে থাকতে পারে না। উন্নয়ন ও সৃজনশীলতায় পৌরসভা হবে দেশসেরা। এলক্ষ্যে ইশতেহারে উল্লেখিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিজ্ঞজন, সুধীজন, শিক্ষক, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করা হবে। এজন্য মেয়র প্রার্থী হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু নির্বাচনী বৈতরণী পার হলে সকল মহলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আওয়ামী লীগের ‘প্রতিবাদী’ বিদ্রোহী প্রার্থী জিএস ফারুকুল হক ও আব্দুল কুদ্দুছ টিটু (হেলমেট), সাবেক পৌর প্রশাসক মো. তফজ্জুল হোসেন (জগ), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. আব্দুস শুকুর (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদ (হ্যাঙ্গার), মো. আব্দুস সবুর (মোবাইল) ও আহবাব হোসেন সাজু (কম্পিউটার), জাতীয় পার্টির সুনাম উদ্দিন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির এডভোকেট আবুল কাশেম (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অজি উদ্দিন (নারিকেল গাছ)।

 


সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :