Friday, 21 January, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




একটি মহল শিক্ষার্থীদের ঢাল বানিয়ে ফায়দা লুটতে চায় : তথ্যমন্ত্রী

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর সড়কে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি পক্ষ ‘রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজপথ ত্যাগ করে ক্লাসে ফিরে যেতেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল-ডিএসইসি মেধাবৃত্তি ২০২১ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসকল কথা বলেন।

ডিএসইসি সভাপতি মামুন ফরাজীর সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য ইঞ্জি: মো: মোজাফফর হোসেন, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, সাম্প্রতিক দেশকালের সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন পলাশ, কে এস বি গ্রুপ চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ এ হোসাইন দীপু বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে রাজনীতি করা শুরু হয়েছে, তাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনেকে রাজনীতি ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে এবং রামপুরার ঘটনাকে সেই অপচেষ্টার অংশ বলেই অনেকে মতপ্রকাশ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু পক্ষ আছে পরগাছার মতো। তারা অপরের ওপর ভর করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এই পরগাছারা সক্রিয় হয়ে গেছে। ছাত্রদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। সুতরাং এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন,‘আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করছে, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। নিরাপদ সড়ক আমাদের প্রয়োজন, সরকারও এ বিষয়ে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্যে ইতিমধ্যেই হাফভাড়া করে দিয়েছে। বেসরকারি মালিক সমিতি ঢাকায় হাফভাড়া করেছে, চট্টগ্রামের জন্য আলোচনা করছে। আশা করব, আমাদের সন্তানরা এখন ক্লাসে ফিরে যাবে। করোনার কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে, এখন ক্লাসে ফিরে যাবার সময়।’

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অভিভাবকদের অনুরোধ জানাব, এ ব্যাপারে আপনারাও সতর্ক থাকবেন। সন্তানরা যাতে ক্লাসে ফিরে যায়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ না পাঠালে সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ফেলা হবে। তারা তো আমাদের সাড়ে বারো বছর আগে থেকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে চাচ্ছেন এবং সেটি করতে গিয়ে রশি ছিঁড়ে তারাই পড়ে গেছেন। আমি মির্জা ফখরুল সাহেবকে অনুরোধ জানাবো, আরো টান দিলে আপনারা আরও পড়ে যাবেন। সুতরাং সেই চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই।’

মন্ত্রী এসময় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়ার জন্য ডিএসইসিকে ধন্যবাদ জানান।

অ্যাটকোর সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর বৈঠক

দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেল স্বত্ত্বাধিকারের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-অ্যাটকোর প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সচিবালয়ে তার দপ্তরে এক বৈঠকে মিলিত হন।

অ্যাটকোর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সহ-সভাপতি আরিফ হাসানসহ অ্যাসোসিয়েশন পরিচালকদের মধ্যে আহমেদ জোবায়ের, আব্দুল হক, কাজী জাহেদুল হাসান, আশফাক উদ্দীন এবং সদস্য নাসির উদ্দীন বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘হৃদ্যতাপূর্ণ বৈঠকে অ্যাটকো উপস্থাপিত বিষয়ের একটি হচ্ছে, বাংলাদেশে যে সমস্ত মোবাইল ফোন কোম্পানি আছে তারা লাইসেন্স না নিয়েই ওটিটি প্লাটফর্ম পরিচালনা করছে, কনটেন্ট বানাচ্ছে, অনলাইনে প্রচার করছে এবং সেখান থেকে উপার্জন করছে, যেটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে আমরা বিষয়টা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবো। তারা যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে এটি করে থাকেন, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অ্যাটকো নেতারা আইপিটিভির নিবন্ধন নিয়ে সভায় আপত্তি তুলেছিলেন।

সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নিয়মকানুন মেনে আইপিটিভিকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আইপিটিভি পৃথিবীর বাস্তবতা। কিন্তু ব্যাঙের ছাতার মতো আইপিটিভি সমীচীন নয় বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। আমরা ইতোমধ্যেই ১৪টি আইপিটিভিকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অনুমতি দিয়েছি। আইপিটিভি সংক্রান্ত নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে, সেখানে নীতিমালায় বলা আছে আইপিটিভি কোনোভাবেই সংবাদ প্রচার করতে পারবে না, কেবলের মাধ্যমে প্রচার করতে পারবে না। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অত্যন্ত যত্নসহকারে আইপিটিভির ব্যাপারে অগ্রসর হতে চাই, যথেচ্ছভাবে নয়।’

 




 

Developed by :