Wednesday, 1 December, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




ইউপি নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

বিয়ানীবাজারে তৃণমূল ভোটে আ’লীগের আস্থা, স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপি-জামায়াত

ছাদেক আহমদ আজাদ: বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এলক্ষ্যে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হলেও প্রচারণা এখনো জমে উঠেনি। শুধুমাত্র রাত জুড়ে উঠান বৈঠক কিংবা প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে মাতামাতিতে কিছুটা সরগরম হয়ে উঠছে চা-স্টল। বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা অনেকটা কম এবং নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর লাইনও দীর্ঘ হচ্ছে না। তবে, একেবারে শূন্যের পরিবর্তে ৩-৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনের মতো এবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে থাকবে। কিন্তু বিএনপি এবার দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে, প্রত্যেক ইউনিয়নে তাদের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। পরোক্ষভাবে তাদেরকে দলীয় সমর্থনও করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীরা এখনো অন্ধকারে রয়েছেন। দু’ইউনিয়নে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জানা গেলেও কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। অপর ৮ ইউনিয়নে প্রার্থী আছে কি-না তাও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তেমন একটা আনাগোনা কিংবা দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ছে না।

জানা যায়, গত রোববার বিয়ানীবাজারে তৃণমূল নেতাদের প্রত্যক্ষ ভোটে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এরমধ্যে ১নং আলীনগর ইউনিয়নে সিলেট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আহবাবুর রহমান খান শিশু, কুড়ারবাজার ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা বাহার উদ্দিন এবং ১১নং লাউতা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চারবারের চেয়ারম্যান এমএ জলিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। দলের তৃণমূল নির্বাচনে ইউনিয়নওয়ারি ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২০ জন ভোটার ছিলেন।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে আওয়ামী লীগের ভোটাররা নৌকা প্রতীকের জন্য প্রার্থী বাছাই করেন। এ নিয়ে কারো কোন অভিযোগ শুনা যায়নি। তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে তালিকায় প্রথমে রাখা হয়েছে। এভাবে জেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূল ভোটে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী ব্যক্তির নাম দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে প্রেরণ করেছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মারাত্মক অভিযোগ কিংবা বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী না হলে সাধারণত তৃণমূলে প্রথম হওয়া ব্যক্তি নৌকার জন্য মনোনীত হবেন। এমনটাই জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদানের শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। ভোটে ৭ ইউনিয়নের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান মিলে ২১ জনের স্থলে ১৫ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন। আগামী শুক্রবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

গত রোববার আওয়ামী লীগের তৃণমূল ভোটে নৌকার জন্য বাছাইকৃত প্রার্থীরা হলেন, চারখাই ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১২ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় প্রবাসী কমিউনিটি নেতা গৌছ উদ্দিন। দুবাগ ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১০ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পলাশ আফজাল, ৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও ৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদির। শেওলা ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১৩ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন, ৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ খান ও ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারেক হোসেন খান। মাথিউরা ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আমান উদ্দিন, ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিন ও ৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন রুনু। তিলপাড়া ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিবেকানন্দ দাস বিবেক, ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন এবং ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য সাংবাদিক ছাদেক আহমদ আজাদ। মোল্লাপুর ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ এবং ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন। মুড়িয়া ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৬ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাব্বির উদ্দিন এবং ৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ তারেক। প্রাপ্ত তথ্যমতে, কেন্দ্রে নাম গেলেও মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিন, তিলপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন, সাংবাদিক ছাদেক আহমদ আজাদসহ কয়েকজন দলীয় প্রতীক নৌকার চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য আবেদন করেননি। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে, কিছুটা ক্ষোভ এবং তৃণমূল ভোটের প্রতি আস্থা রেখেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আবার অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, দু’এক ইউনিয়নে তৃণমূলের ভোটে নির্ধারিত প্রার্থীর পরিবর্তে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যক্তিকে নৌকা দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত এ তথ্য বুমেরাং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এদিকে, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ছাড়াও এবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, আলীনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি’র মামুনুর রশীদ, চারখাই ইউনিয়নে বিএনপি নেতা অহিদ আহমদ তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ হোসেন চৌধুরী, দুবাগ ইউনিয়নে বিএনপি নেতা কিবরিয়া আহমদ ও মাওলানা মো. কমর উদ্দিন, শেওলা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আখতার হোসেন খান জাহেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আব্দুল হামিদ খান, কুড়ারবাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এএফএম আবু তাহের, আওয়ামী লীগ সমর্থক তুতিউর রহমান তোতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আলকাছ আলীর পুত্র জাকারিয়া আহমদ, মাথিউরা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আব্দুর রব কছির আলী ও ময়নুল ইসলাম বাবুল, তিলপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মো: মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছাইফুল আলম খায়রুল, জামায়াত নেতা বেলায়েত হোসেন আজমান ও ব্যবসায়ী রেজাউল করিম শামীম, মোল্লাপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এমএ মান্নান, মুড়িয়া ইউনিয়নে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ফরিদ আল মামুন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাব্বির উদ্দিন, লাউতা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন ও জামায়াতে ইসলামীর দেলোয়ার হোসেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ কামাল হোসেন জানান, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটার প্রায় এক লক্ষ ৬৫ হাজার। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১০ ইউনিয়নের জন্য ৫জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তাদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। সূত্র: সিলেটের ডাক

 




 

Developed by :