Wednesday, 1 December, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




এক মসজিদেই ৪০ বছর কাটিয়ে মারা গেলেন মুয়াজ্জিন মনির আহমদ

বার্তা ডেস্ক :চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট বাজার মসজিদ। চালহাটা মসজিদ নামে পরিচিত এই মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা মনির আহমদ। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাজারে আসা মানুষজনের কাছে অতি পরিচিত মুখ তিনি। প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরমধ্যে নানা প্রতিকূলতা এলেও দায়িত্ব ছেড়ে যাননি। মাদ্রাসায় শিক্ষিত পরিপূর্ণ মাওলানা হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ভালো বেতনে কাজের সুযোগ পেলেও যাননি। শেষ পর্যন্ত সেই মসজিদেই হার্ট অ্যাটাকে ৬৫ বছর বয়সে মারা যান এই মুয়াজ্জিন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করেন মাওলানা মনির আহমদ।

এরপর তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার সন্তান ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান।
জানা যায়, উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারার শান্তিরহাটের বাসিন্দা মাওলা মনির আহমদ। নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা থেকে দাওয়ায়ে হাদিস শেষ করে ১৯৮১ সালে থাকা-খাওয়ার সঙ্গে ৩ হাজার টাকার বেতনে বাজার মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেই থেকে এই মসজিদেই কেটে যায় জীবনের ৪০টি বছর। এরমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ভালো বেতনে কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এই মসজিদ ফেলে যাননি। জানা যায়, গ্রাম বাংলার আরও দশজন মুয়াজ্জিনের মতো আর্থিকভাবে অভাব অনটনে থাকতো মনির আহমদ। এরপরও সবসময় হাসিমুখে থাকতেন। সদা নম্র- ভদ্র এই মুয়াজ্জিন স্থানীয়দের খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিল। মনির হুজুর নামে এক নামে পরিচিত ছিল সবার কাছে। এদিকে মাওলানা মনিরের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে এলাকায়। নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা মাঠ ও গ্রামের বাড়ি উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারায় তার দুইটি জানাজা হয়। জানাজায় হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাকে নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ আহমদ ইসলামাদী বলেন, ‘মাওলানা মনির আহমদ খুব ভালো একজন মানুষ ছিলেন। আমার সঙ্গে যতবারই দেখা হতো হাসিমুখে কথা বলতেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি এই মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। সবসময় তার অমায়িক ব্যবহার ও নম্র, ভদ্র আচরণ পেয়েছি।’ মসজিদের মোতোয়াল্ল্লি মাওলানা নুর মোহাম্মদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘মুয়াজ্জিন মাওলানা মনির আহমদ খুব পরহেজগার মানুষ ছিলেন। আচার-আচরণ, লেনদেন সবকিছুতেই বেশি ভালো ছিল। তিনি টানা ৪০ বছর এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে কখনো কাজে ফাঁকি দিতে শুনিনি। আর অন্য দশটি মুয়াজ্জিনের মতো তার আর্থিক অবস্থাও খুব খারাপ ছিল।’ তিনি বলেন, মাওলানা মনির আহমদ মসজিদে এতদিন ধরে খেটেছেন। নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কোনোভাবেই এটি সম্ভব নয়। উনি নিজের আর্থিক উন্নতির জন্য কিছুই করেননি। এই অবস্থায় হঠাৎ করেই চলে গেলেন। এখন আমাদের উচিত ওনার পরিবারকে আর্থিকভাবে একটু সহযোগিতা করা। তবে আমাদের মসজিদেও তেমন ফান্ড নেই। এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল কিছু মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে তার পরিবারের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ালে খুব বেশি ভালো হয়।’

মানব জমিন।।।

 




 

Developed by :