Thursday, 2 December, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




বরিশালে ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলামসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলার আবেদন আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মাসুম বিল্লাহ আগামী ২৩ সে‌প্টেম্বরের ম‌ধ্যে মামলা দুটির প্রতিবেদন দাখিল করতে পিবিআইকে আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে বরিশালে ইউএনওর বাসভবনে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার আবেদন করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন ও সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার।

দুটি মামলার আবেদনে ইউএনও মুনিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিসির কাজে বাধাদান, বিনা উস্কানীতে বিসিসির কর্মচারীদের ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ প্রদান, হামলা, গুলিতে একাধিক ব্যাক্তির অঙ্গহানী এবং ৩০/৪০ জনকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুটি মামলার মধ্যে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের মামলায় আসামি করা হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মুনিবুর রহমান, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম, একই থানার এসআই শাহজালাল মল্লিক, ইউএনওর নিরাপত্তারক্ষী পাঁচ আনসার সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ জন।

অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদারের করা মালায় আসামি করা হয়েছে ইউএনও মুনিবুর রহমান, তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পাঁচ আনসার সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ জন।

পৃথক দুটি মামলার আবেদনে বলা হয়, নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য সিটি করপোরেশনের সভায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ আগস্ট রাতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করতে যান। এসময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনাটি জেনে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় ইউএনও এবং আনসার সদস্যরা মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববর্ম তৈরি করে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে রক্ষা করেন। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এর আগে বরিশাল সদর উপজেলা ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছিল। সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করে মামলা দুটি দায়ের করেন ইউএনও ও পুলিশ। এছাড়া মামলাগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৯৪ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 




 

Developed by :