Wednesday, 22 September, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




এমপি একরামকে একহাত নিলেন কাদের মির্জা

বার্তা ডেস্ক: নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে একহাত নিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। একরামুল করিম চৌধুরীকে ‘উদ্ভট মাতাল বাজে লোক’ বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করে তাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৪ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এ দাবি জানান।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বলেন, ‘একরাম নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী। সে একজন এমপি। গত ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সন্তান শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্ম দিনের এক অনুষ্ঠানে সে বলেছে, একরাম তার ছেলেসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আর থাকবেনা। শুধু নোয়াখালীতে না, তারা সারা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আর থাকবে না। এর কিছুক্ষণ পর আবার ফেসবুক লাইভে এসে সাংবাদিকদের গালাগাল করে বললো, আমি এ কথা বলি নাই। অথচ ইতিমধ্যে ফেসবুকে তার কথাটা ভাইরাল হয়ে গেছে।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘একটা পাগল উম্মাদকে কেন এখন পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী রাখা হয়েছে জানি না।’

প্রায় ৪৭ মিনিটের লাইভে কাদের মির্জা অভিযোগ করেন, ‘এই একরাম সেই একরাম যে একরাম বলছে, ওবায়দুল কাদেরের পরিবার রাজাকার পরিবার। সে সব কথায় মাতাল অবস্থায় বলে। সে সারাক্ষণ মদ পানে ব্যস্ত থাকে, মাতাল অবস্থায় সব সময় কথা বলে। সে আরেক বার বলেছে ৬৯ সালে নাকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন পদে ছিল না। বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন না। কয় শেখ হাসনিা ৬৮ সালের আগে কোন দায়িত্বে ছিলেন না। ১৯৬৬-৬৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসনিা ইডেনের ভিপি ছিলনা। একি রাজনীতি বুঝে বা জানে। একটা উদ্ভট মাতাল বাজে লোককে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী বানানো হইছে এটা অন্তত দুঃখজনক। নোয়াখালীকে সে কলংঙ্কৃত করেছে। নোয়াখালীর রাজনীতিকে সে ধ্বংস করেছে। এ ছেলে এখনো ছেলেমী করে। তার টাকা আছে এজন্য তাকে এখনো সেক্রেটারী রাখা হইছে।’

মেয়র কাদের মির্জা বলেন, ‘নোয়াখালীর ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে জননেত্রী শেখ হাসনিা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন যিনি এ অঞ্চলের দায়িত্বে আছেন। যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে মাহবুবুল আলম হানিফ হস্তক্ষেপ করবেন। অন্যদের কাজ কী, নোয়াখালী নিয়ে কথা বলার। টাকা খেয়ে দালালি করা। একটা অরাজনৈতিক ছেলেকে এভাবে পুনবার্সন করা এটা লজ্জাকর ব্যাপার ও দুখঃজনক ব্যাপার। একটা মাতাল ছেলেকে এখানে পুনবার্সন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ নোয়াখালী মালেক উকিলের নোয়াখালী, নুরুল হক সাহেবের নোয়াখালী, এ নোয়াখালী শহীদ উদ্দিন কচি ভাইয়ের নোয়াখালী। এ নোয়াখালীর সম্মান নষ্ট করেছে একরাম। তাই বলব (১৫ আগস্ট) জাতীয় লোক দিবসকে সামনে রেখে তাকে অনতিবিলম্বে নোয়াখালীর রাজনীতি থেকে সরানো হোক। সে এখানে সেক্রেটারী হওয়ার কোন পদে যাওয়ার যোগ্যতা রাখেনা । সে এমপি হওয়ারও যোগ্যতা রাখেনা। তার অর্থের কারণে, তার অস্ত্রের কারণে তাকে নেতৃত্বে রাখা হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মীরা এটা মানবে না। কখনো মানতে পারে না।’

 




 

Developed by :