Wednesday, 4 August, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




বৈরাগীবাজারে ব্যবসায়ী জিয়াউলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

নাহিদুর রহমান: সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকার ফার্মেসী ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা এবং মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার বৃহত্তর বৈরাগীবাজার এলাকাবাসী। শুক্রবার বিকেলে বৈরাগীবাজারে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বৃহত্তর বৈরাগীবাজার এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কয়েকশ’ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান এএফএম আবু তাহের, বৈরাগীবাজ্জার আদর্শ বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক আলী হাসান, বৈরাগীবাজার অটো মিশুক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন, বৈরাগীবাজার ব্লাড ডোনেটরস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান জুবের, মাস্টার শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম, বৈরাগীবাজার বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান স্বপন।

দাম্পত্য জীবনের কলহের জেরে স্ত্রী তার দুই সহোদরকে নিয়ে ব্যবসায়ী স্বামী জিয়াউল ইসলামের উপর হামলার তীব্র নিন্দা এবং এটি একটি ঘৃণিত কাজ উল্লেখ করে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘জিয়াউল ইসলাম অত্যন্ত ভালো মনের পরোপকারী একজন মানুষ। নিজের অপরাধ গোপন রাখতে তার স্ত্রী নিজের ভাইদের সহযোগিতায় জিয়াউলের উপর হামলা চালায় এবং যৌতুক দাবি, মারপিট ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে। আমরা বৃহত্তর বৈরাগীবাজার এলাকাবাসী এমন হীন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি এসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর নয়াসড়ক এলাকার বিশিষ্ট ফার্মেসী ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলাম ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জেরে গত ২৩ জুন বিকাল ৩টার দিকে সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলাস্থ মদিনা ফার্মেসীতে ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলাম উপর হামলা করেন স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন তার দুই ভাই ডা. আনোয়ার হোসেন ও আলতাব হোসেন। স্ত্রী ও স্ত্রীর ভাইদের হামলায় আহত ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলাম জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করে সহায়তা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তার স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আশ্বাস দিলেও উল্টো ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৫ জুন তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম যৌতুক দাবি ও মারপিটের অভিযোগ এনে নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। স্ত্রীর দায়ের করা মামলা ২৬ জুন রাতে হাসপাতাল থেকে আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে সিলেট মহানগর কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী কারাবাসে রয়েছেন। এছাড়া ৭ জুলাই আহত ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামসহ আরও দুইজনকে আসামি করে হামলা ও ভাংচুর মামলা দায়ের করেন মনোয়ারা বেগমের বড়ভাই ডা. আনোয়ার হোসেন।

অন্যদিকে, সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেয়ার পরও কোন সুরাহা না হওয়ায় ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের পক্ষে ২৭ জুন কোতয়ালি মডেল থানায় জিয়াউলের উপর অতর্কিত হামলা, অর্থ লুট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন তার ভাবি সাফিয়া বেগম।

উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার দেবদ্রী গ্রামের আরিজখাঁ টিল্লায়। তিনি ব্যবসায়ীক কারণে স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

 

Developed by :