Saturday, 18 September, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী জাহেদ এর মানবিকতায় রিফাত খুঁজে পেলো তার মা-বাবাকে

বার্তা ডেস্ক: বয়স ১২ কি ১৩ ছিমছাম জীর্ন শারীরিক আকৃতি নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করছিল ঠিকানাহীন গন্তব্যের খোজে। বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোলাপের চর গ্রামে,পিতা পেশায় দিনমজুর। দুই ভাইয়ের মধ্যে রিফাত ছোট, মা ও মানসিক রোগাক্রান্ত। প্রায় একমাস আগে রিফাত কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে অজানা গন্তব্যে। গন্তব্য খুজতে খুজতে ক্ষুধার্ত রিফাত যখন শারীরিক, মানসিক শক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হবার পথে ঠিক সেসময় মানবতার হাত বাড়িয়ে রিফাতকে নিজের কাছে তুলে নেন একসময়কার ছাত্রলীগের অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী, কুলাউড়া উপজেলার রাউতগাও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক আব্দুল মোমিন জাহেদ।

জীর্ন বিপর্যস্ত, ক্ষুধার্ত রিফাতকে রাস্তায় ক্রন্দনরত দেখে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন সাবেক এই ছাত্রলীগ কর্মী। বাড়িতে এনে রিফাতকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন আনন্দচিত্তে মায়া আর অচেনা ভালবাসায় পথহারা রিফাতের চোখে মুখে ও হাসির ঝিলিক। এভাবে কেটে যায় প্রায় ১০ দিন। এরই মধ্যে রিফাত যেন তাদের পরিবারের একজন হয়ে উঠছে, খাওয়া দাওয়া, মসজিদে যাওয়া আসা সবই একসাথে, সখ্যতা যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। শুধু আব্দুল মোমিন জাহেদ নয়, পাশাপাশি প্রতিবেশি অনেকের সাথেই রিফাতের যেন অনেক দিনের চিন পরিচয়।

সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। আশ্রয়দাতা ও মনে মনে রিফাতের ঠিকানা এবং পিতা মাতাকে খুজছেন। রিফাতের বয়স ১২/১৩ হলেও কথাবার্তা বেশ অসংলগ্ন, এক কথার সাথে আরেক কথার কোন মিল নেই। ২/৩ দিন পর রিফাত তার গ্রামের নাম এবং বাবার নাম বলে। আশ্রয়দাতার মনেও কিছুটা আশার সঞ্চার হয়, তারপর আব্দুল মোমিন জাহেদ ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের একটা নাম্বারে যোগাযোগ করেন। অবশ্য প্রথমে ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান এর নাম্বারে যোগাযোগ করে ব্যার্থ হন। হাল ছাড়েননি, একটা পর্যায়ে একটা নাম্বার থেকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আল-আমিনের নাম্বার সংগ্রহ করে উনার সাথে কথা বলে রিফাতের স্থায়ী ঠিকানার ব্যাপারে নিশ্চিত হন।

আস্তে আস্তে স্বপ্ন ডানা মেলে রিফাতকে তার মা-বাবার কাছে পৌছে দেয়ার। যুবলীগ নেতা আল-আমিনের সহযোগিতায় দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসানকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাতক্ষনিক কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর সহযোগিতা চান। ফরহাদ চৌধুরী ও দ্রুত রিফাতের আশ্রয়দাতা আব্দুল মোমিন জাহেদ এর সাথে যোগাযোগ করলে রিফাতকে তার মা-বাবার কাছে পৌছে দেয়ার জন্য সার্বিক দিক নির্দেশনা দেন।

এরই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আশ্রয়দাতা আব্দুল মোমিন জাহেদ রিফাতের গ্রামের বাড়িতে যাতায়াতের অনুমতিপত্র প্রদানসহ যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন। আশ্রয়দাতা ও আর কালবিলম্ব না করে দ্রুত রিফাতকে সাথে নিয়ে রওয়ানা দেন রিফাতের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। রিফাতের মুখের হাসি আর উচ্ছলতা যেন ক্রমেই বেড়ে চলছে,আশ্রয়দাতা জনাব আব্দুল মোমিন জাহেদের মনে ও একসমুদ্র প্রশান্তি।

পরের দিন ভোরে রিফাতকে নিয়ে যাওয়া হয় দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে, সেখানে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রিফাতকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় সেখানে এক আবেগঘন ভালবাসার চিত্র ফুটে ওঠে।

এ ব্যাপারে আশ্রয়দাতা সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল মোমিন জাহেদ এক প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, রিফাতকে তার মা বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত, সাথে আবেগাপ্লুতও। কারন এ কয়েকদিনে রিফাত আমার পরিবারের-ই একজন হয়ে ওঠেছিল। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর প্রতি। যার সহযোগিতা না পেলে হয়তো আমার পক্ষে এই কঠিন কাজটির সফল সমাপ্তি হত না। পাশাপাশি দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান এবং দাউদকান্দি উপজেলা যুবলীগ নেতা আল-আমিন এর কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তাদের সহযোগিতা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে রিফাতকে নিয়ে দাউদকান্দি পৌছার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সহ স্থানীয়রা আমাকে যে সম্মান ও ভালবাসা দেখিয়েছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।

 




 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :