Monday, 20 September, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

সিলেট: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাসি কার্যকর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় জল্লাদ শাহজাহানের হাতের টানেই হবিগঞ্জ জেলার রাজনগর কবরস্থান এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সিরাজের ফাঁসি হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে (১ম) এটাই প্রথম ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা।

স্ত্রী হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে ব্যর্থ হন সিরাজুল ইসলাম। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আশপাশ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

কারাসূত্রে জানা গেছে, ফাঁসি কার্যকর করার আগে সিরাজের ইচ্ছে অনুযায়ী তার পরিবারের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির মঞ্চে ওঠার আগে সিরাজ খুব শান্ত ছিলেন বলে কারা সূত্র জানায়। কারা রীতি অনুযায়ী ফাঁসির মঞ্চে তোলার আগে সিরাজকে গোসল করানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে তওবা পড়ানো হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মঞ্জুর আলম জানান, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সিরজুল ইসলাম সিরাজের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করলে তার আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় সিরাজের ফাঁসি কার্যকর হয়।

কারা সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ স্ত্রী সাহিদা আক্তারকে শাবল ও ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ থানায় ২০০৪ সালের ৭ মার্চ হবিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা (নং-৫) দায়ের করেন নিহতের ভাই। দীর্ঘ শুনানির পর ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক সিরাজের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। সেই সাথে রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ হাইকোর্টে জেল আপিল (নং-১৫৮/২০০৭)। পরে ডেথ রেফারেন্সের (নং-১৮/০৭) আলোকে ২০১২ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট সিরাজের জেল আপিল নিষ্পত্তি করে সিলেটের আদালতের রায়ই বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সিরাজ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে জেল পিটিশন (নং-২৬/১২) দাখিল করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর রায়ে সিরাজের আপিল বাতিল করে ডেথ রেফারেন্সের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন। এরপর সিরাজ প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে এ বছরের ২৫ মে রাষ্ট্রপতি তা না মঞ্জুর করেন।

১৭৮৯ সালে সিলেটের ধোপাদিঘীর পাড়ে নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় নতুন কারাগারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে সিলেট শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর নতুন কারাগারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারাগার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার (১ম) হিসেবে পরিচয় পায়। পুরনো কারাগারের পরিচয় হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে (২য়) হিসেবে। উদ্বোধনের আড়াই বছর পর বৃহস্পতিবারই এ কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হলো।

 




 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :