Monday, 14 June, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




হেফাজত নেতা মামুনুলের মাসিক আয় ছিল ‘কোটি টাকা’

বার্তা ডেস্ক: ‘মামুনুল হকের অ্যাকাউন্টে দেশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বিদেশ থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা আসতো’

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের কাছে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আসতো। এভাবে তিনি মাসে এক কোটি টাকারও বেশি আয় করতেন।

রবিবার (৬ জুন) বেলা তিনটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে ধর্ষণসহ ৬ মামলায় ১৮ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সংবাদ সম্মেলন ও ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, একটি ধর্ষণ মামলাসহ মোট ৬টি মামলায় ১৮ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেফাজত ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গতকাল (৫ জুন, শনিবার) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১৮ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পত্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আয়-ব্যয়, গত ২৮ মার্চের হরতাল নিয়ে পরিকল্পনা ও কথিত স্ত্রীকে ধর্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

জায়েদুল হক বলেন, আমরা জানতে পেরেছি বিভিন্ন সময় তার মালিকানাধীন বিভিন্ন মাদ্রাসার নামে-বেনামে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভালো অংকের টাকা আসতো। সেটা দেশের বাইরে থেকেও আবার দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকেও।

তবে টাকার পরিমাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, “এটা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে টাকা পরিমাণ আনুমানিক কোটি টাকার উপরে।”

এদিকে, এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে মামুনুল হকের মাসিক আয় ছিল এক থেকে দেড় কোটি টাকা। এ অর্থ নানাভাবে তার কাছে পৌঁছানো হচ্ছিল। আরও জানা গেছে, ঢাকায় মামুনুল হকের মালিকানাধীন ৩ থেকে ৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মোহাম্মদপুরে অবস্থিত জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কেরানীগঞ্জে তারাবিয়া উলুম নামে একটি মাদ্রাসাসহ আরও অন্তত দুটি মাদ্রাসা রয়েছে।”

এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার জানিয়েছিলেন, গোয়েন্দারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থায়ন করে হেফাজতে ইসলামকে সহায়তা করা ৩১৩ জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের অর্থ ইসলামপন্থী হার্ডলাইনের সংগঠনের সিনিয়র নেতা মামুনুল হকের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। মামুনুলের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে শনিবার (৫ জুন)  ৬ মামলায় ১৮ দিনের রিমান্ড শেষে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতার করা হয়।

 

Developed by :