Wednesday, 4 August, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




আরিফের মৃত্য গ্রীসে, দাফন বিয়ানীবাজারে

ছাদেক আহমদ আজাদ:

আরিফ আহমদ। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে। কৃতি ক্রিকেটার হিসেবেও এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। কিন্তু ৩ বছর পূর্বে নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আরিফ উন্নত জীবন ও জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। সেখান থেকে ৬ মাস পূর্বে অনেক বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করেন গ্রীসে। ইচ্ছা ছিল স্থিতি গাড়বেন ফ্রান্সে। তবে, সুখ তার কপালে সয়নি! পরিবারের সদ্যদের মুখে হাসি ফুটানোর আগেই গত ৪ মে ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি গ্রীসের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

২৫ বছরের সম্ভাবনাময়ী রেমিট্যান্স যোদ্ধা আরিফ আহমদের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ গ্রামে। তার পিতার নাম শরফ উদ্দিন। উন্নত দেশ ফ্রান্সে গিয়ে পরিবারের ভাগ্যবদলের উদ্দেশ্য ছিল বড়পুত্র আরিফের। এলক্ষ্যে ৩ বছর পূর্বে ধারদেনা করে তিনি ওমানে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ইরান হয়ে তুর্কি; পরে গ্রীস। এ দু’দেশের যাত্রাপত্র মোটেও আরামদায়ক ছিলনা। এরপরও জীবনের মায়া তুচ্ছ করে ছোট ভাই-বোনদের দিকে চেয়ে বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে আরিফকে। ভাগ্যগুণে তিনি কিছুটা সফলতার মুখও দেখেছিলেন। কিছুদিন পর গ্রীস থেকেই যাত্রা করার কথা ছিল স্বপ্নের দেশ ফ্রান্সে। কিন্তু ভাগ্যলক্ষ্মী তার ডাকে সাড়া দেয়নি। গ্রীসে প্রবেশ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সর্বশেষ গত ৪ মে গ্রীসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রেনস্ট্রোক করে মারা যান পরিবারের বড় ছেলে আরিফ আহমদ। মর্মান্তিক ও হৃদয়গ্রাহী এ খবর দেশে এসে পৌঁছলে আরিফের পিতা-মাতা ও ভাইবোন অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিচিত মহলেও শোকের ছায়া নেমে আসে। এরপর আরিফের লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ইন গ্রীস, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীস, গ্রীস বাঙ্গালী কমিউনিটির সিলেট জেলা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলীনগর ইউনিয়নের কৃতিসন্তান রুবেল আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আরিফ আহমদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

শনিবার ভোরে গ্রীস থেকে বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরিফের মরদেহের কফিন এসে পৌছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার কফিন গ্রহণ করেন। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় বিয়ানীবাজার উপজেলার মেওয়ায় জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আরিফ আহমদের দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার বিপুলসংখ্যক লোক জানাজায় শরিক হন। পরে তার লাশ গ্রামীণ কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা আসআদ উদ্দিন।

এর আগে, গত সোমবার গ্রীসের স্থানীয় একটি মসজিদে আরিফ আহমদের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিয়ানীবাজারসহ বাঙালি কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন খান জাহেদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ হোসেন খান এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, পরিবারের বড় সন্তান ছিল আরিফ আহমদ। তাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিলনা। এজন্য সবার সহযোগিতায় তাকে প্রবাসে পাঠানো হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, পিতা-মাতা সুখ পাওয়ার পরিবর্তে দেখলেন সন্তানের মৃত মুখ। যা সত্যি হৃদয়বিদারক। তারা আরিফের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সদবেদনা জানান।

 

Developed by :