Monday, 17 May, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘তিনটি’ বিষয়ের কথা বলেছেন হেফাজত নেতারা

বার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসা-ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে তারা তিনটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে ঢালাও গ্রেফতার বন্ধ, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত করে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন হেফাজত নেতারা। এভাবে ঢালাও গ্রেফতারের কারণে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

এই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজত নেতাদের জানিয়েছেন, কোনো ঢালাও গ্রেফতার হচ্ছে না বরং সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সহিংসতা ঘটেছে সেগুলোর ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বৈঠকের সূত্র থেকে আরও জানা যায়, হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত করার অনুরোধ করেন এবং তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন, যে হেফাজত সরকারের প্রতিপক্ষ নয়। নেতারা জানান, হেফাজত কোনো রাজনৈতিক সংগঠনও নয়।

মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিষয়। হেফাজত নেতারা বলেন, রোজার মাসে কওমি মাদ্রাসার আয় বেশি হয় এবং অনেক মাদ্রাসায় ‘এতিম শিক্ষার্থী’রা থাকে।

চলমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান হেফাজত নেতারা।

হেফাজতের মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদী বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, গ্রেফতার মুক্তি, মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সবকিছুই তো আপনারা জেনেছেন। এর চেয়ে বেশি আমার কিছু বলার নেই।

গ্রেফতারকৃতদের জন্য আইনি লড়াই চালানো এবং একইসংগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এতে তাঁরা তাঁদের নেতাদের গ্রেফতার-মুক্তির বিষয়ে কথা বলছেন। আমি তাঁদের বলেছি, ঢালাও গ্রেফতার হচ্ছে না।  যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাঁদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের আগে দিনে সংগঠনটির নেতারা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সংগেও বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

গত এক সপ্তাহে পুরাতন ও নতুন মামলায় হেফাজতে ইসলামের ১২ জন হেভিওয়েট নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন- হেফাজতে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহ-অর্থসম্পাদক মুফতি ইলিয়াস হামিদী, সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফ উল্লাহ, ঢাকা মহানগরীর সহ সভাপতি মাওলানা জুবায়ের, ওয়াসেক বিল্লাহ নোমানী, নারায়ণগঞ্জের মতুর্জাবাদ জামে মসজিদের খতিব লোকমান হোসেন আমিনী, হেফাজত অনুসারী রফিকুল ইসলাম মাদানী।

 

Developed by :