Thursday, 29 July, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান

‘এ সম্মান আমাদেরকে করেছে মহিমান্বিত’

ছাদেক আহমদ আজাদ

প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষকদের মিলন মেলা ও স্মৃতিচারণে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবুজ ক্যাম্পাস। কয়েক বছর পর আবার তাঁরা একত্রিত হলেন জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটানো ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ ছাত্র মধ্যবয়স পাড়ি দিলেও শিক্ষকদের অনেকেই বার্ধক্যকে করেছেন আলিঙ্গন। তবুও অতীত রোমন্থণ মুহূর্তে প্রত্যেক ছাত্র-শিক্ষক চিরসবুজের পরিচয় দিয়েছেন। তারা জয়গান গেয়েছেন সুশিক্ষার, কামনা করেছেন আলোকিত মানুষ হওয়ার।

শনিবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত বিয়ানীবাজারের জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের চিত্রটি এভাবে ফুটে উঠে। দিনভর নানা আয়োজনে প্রাক্তন ৭ শিক্ষককে মরণোত্তরসহ আরো ৭জন শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করেছে বিদ্যালয়ের ‘৮২-৮৭’ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী সজল ও সুনীল দাসকেও সম্মান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা দিতে পেরেছি বলেই আজ সম্মানীত হয়েছি। জীবনের পড়ন্ত সময়ে এ রকম সম্মান দেশ ও জাতির কাছে নিঃসন্দেহে আমাদেরকে করেছে মহিমান্বিত। প্রকৃত শিক্ষাই হলো, ছোটদের প্রতি আদর ও বড়দের সম্মান জানানো। শিক্ষকরা আরও বলেন, আমাদের সম্মান জানিয়ে ‘৮২-৮৭’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা যুগ যুগ অমলিন থাকবে। জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি বলেও তাঁরা অকপটে স্বীকার করেন। অনুকরণীয় এ ধারা অব্যাহত রাখতে সম্মাননায় ভূষিত শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি এ বিদ্যাপীঠের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে মুস্তাফিজ-পারভেজের মতো শত শত শিক্ষার্থীকে আগামীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেন।

এদিকে, অনুষ্ঠানে জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজির উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক মো. আকমল আলী, প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক মো. হারিছ আলী, নৃপেন্দ্র কুমার দাস, রঙ্গ বিহারী দাস, মো. রইছ আলী ও মাওলানা মো. ছরকুম আলীকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রয়াত শিক্ষকদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। এছাড়া মঞ্চ থেকে সম্মাননা স্মারক, স্মার্ট ফোন ও উত্তরীয় গ্রহণ করেন সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির খান, অদ্বৈত্য কান্ত দাস, মাওলানা মো. মাহমুদুর রহমান, বিধান চন্দ্র দাস, শ্যামা কান্ত দাস ও ঘুঙ্গাদিয়া-বড়দেশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন। তাঁরা প্রত্যেকেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতীতে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সম্মাননায় ভূষিত প্রাক্তন এক শিক্ষককে উত্তরীয় পরিয়ে দিচ্ছেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি

জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী জায়দা কবির জলী ও আব্দুল কুদ্দুছের পরিচালনায় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিক উদ্দিন, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ, সাবেক প্রভাষক প্রেমানন্দ নাথ, দৈনিক সমকাল পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবি ও কথা সাহিত্যিক মুস্তাফিজ শফি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৌলুদুর রহমান, বিয়ানীবাজার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদ আহমদ, শিক্ষানুরাগী আজিজুর রহমান।

অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ বলেন, জাতির সু-নাগরিক গড়ার প্রধান কারিগরদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সম্মান জানাচ্ছে, তাদের খোঁজ খবর রাখছে। একজন শিক্ষকের কাছে এরচেয়ে বড় সম্মান আর কিছু হতে পারে না। তিনি এরকম চর্চা বিদ্যালয়ের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনুকরণ করার আহ্বান জানান।

এ সময় শিক্ষক সম্মাননায় ভূষিত বিধান চন্দ্র দাস বলেন, ভাবলে আপ্লুত হই আমাদের সন্তানরা (শিক্ষার্থীরা) মেধা ও মননে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিজ নিজ অঙ্গনে তারা সুপ্রতিষ্ঠিত। সারা দেশে এক নামে পরিচিত আমাদের সন্তানরা। নিজেদের কর্মব্যস্ত জীবনে আমাদের ব্যতিক্রম আয়োজনে সম্মাননা প্রদান করেছেন- এটাই শিক্ষক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

প্রধান শিক্ষক মো. কবির খান বলেন, শিক্ষকরা কর্মজীবনে থাকলে যে সম্মান পান, অবসর জীবনে সেভাবে মূল্যায়িত হন না। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম যে হয় না তার প্রমান জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাক্তন শিক্ষক হিসেবে সম্মান পাওয়ায় গৌরববোধ করছি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, আমরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীর (৮২-৮৭ ব্যাচ) প্রাক্তন শিক্ষকদের সম্মানিত করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি। আশা করবো বিদ্যালয়ের অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এরকম আয়োজনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করবেন। তিনি বলেন, ৮২-৮৭ ব্যাচের হোয়াটসগ্রুপের পক্ষ থেকে আগামী বছর থেকে এ বিদ্যালয়ের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর বৃত্তি প্রদান করা হবে।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান স্বপন, শ্যামল কান্ত দাস ও নজরুল ইসলাম, জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মুছব্বির আলী, জলঢুপ দ্বীননাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাবেদ আহমদ প্রমুখ।

 




 

Developed by :