Saturday, 5 December, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সেলিমপুত্র ইরফানের ছিলো টর্চার সেলও

বার্তা ডেস্ক: অবৈধ অস্ত্র-মদ-ওয়াকিটকি বা হাতকড়াই নয় হাজী সেলিমপুত্র ইরফানের আছে একটি টর্চার সেলও। র‍্যাব বলছে, ওয়াকিটকি ব্যবহারের কারণ, এলাকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ। তার বাসা ছাড়াও ইরফান পুরান ঢাকার আরেকটি ভবনের ফ্লোরকে ব্যবহার করতেন টর্চার সেল হিসেবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই ইরফানসহ আসামিদের ধরতে ঘিরে রাখা হয় হাজী সেলিমের পুরান ঢাকার বাড়ি। দুপুরে শুরু হয় অভিযান। কয়েক ঘন্টার অভিযানের পর জানানো হয় ইরফান ও দেহরক্ষীকে দণ্ড দেয়ার কথা। অবৈধভাবে ওয়াকিটকি ব্যবহার ছাড়াও ইরফান ছিলো মদ্যপ। দেহরক্ষী জাহিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ইয়াবাও।

চাঁন সরদার দাদার বাড়ি সাদা রংয়ের ৯ তলা ভবনটি স্থানীয়ভাবে সবার কাছেই পরিচিত। ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় থাকেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। অভিযান চলে ওই দুটি ফ্লোরে। মিলে অস্ত্র, গুলি, বিদেশি মদ, ওয়াকিটকি, ড্রোন ও ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার।

র‍্যাব বলছে, উদ্ধার হওয়া উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ৩৮টি ওয়াকিটকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করেন। পাওয়া গেছে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার বা ভিপিএস। যা কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও ট্র্যাক করার সুযোগ থাকে না। ইরফানের এসব ব্যবহারের কারণ চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ওয়াকিটকির মেইন যে সেন্টার সেটিসহ ৩৮টি সেট আমরা জব্দ করি। আমরা জানতে পেরেছি এলাকার চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এই ওয়াকিটকিগুলো ব্যবহার হয়ে থাকে।’

র‍্যাব বলছে পাশের আরেকটি ভবনে মিলেছে টর্চার সেলে। কেউ তার কথার বাইরে গেলেই ধরে এনে চালানো হতো নির্যাতন। আশিক বিল্লাহ আরো বলেন, ‘ভবনের পাশেই আমরা ইরফান মোহাম্মদ সেলিমের এটি টর্চার সেল পেয়েছি। টর্চার সেলে হ্যান্ডকাফসহ আরো কিছু জিনিস উদ্ধার করেছি আমরা।’

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কারো কাছে রাখা আইনত দণ্ডনীয়। মিস ইন্টেশনেই এটা রাখা হয়েছিলো। এখানে তো হকিস্টকি, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি থাকার কথা না।’

মদ্যপ থাকায় ইরফান সেলিমকে ছয় মাস এবং সরকারি আদেশ অমাণ্য করে কালো রঙের ওয়াকিটকি ব্যবহারের দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অর্থাৎ মোট ১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও হ্যান্ডকাফ রাখার দায়ে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। ইরফান সেলিমের দেহরক্ষী জাহিদকেও ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুইজনকেই পাঠানো হয়েছে কারাগারে। এছাড়া, ইরফানের গাড়ি চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

হাজী সেলিমপুত্র ইরফান সেলিম সবশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচন দল থেকে মনোনয়ন পাননি। পরে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

 




Developed by :