Monday, 14 June, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারসহ সিলেটে আটকে আছে তিন কলেজের হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের কাজ

ছাদেক আহমদ আজাদ।।

সিলেটে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি সরকারি কলেজে হাইরাইজ বিল্ডিং ‘বহুতল ভবন’ নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। অপর তিনটির মধ্যে সিলেট জেলা সদরে ৬ তলা থেকে ১০ তলায় বর্ধিতকরণ দু’টি এবং বিয়ানীবাজারে জায়গা জটিলতার কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব কলেজে শিগগির টেন্ডার আহ্বান করা না হলে যেকোন সময় ফাণ্ড জটিলতা দেখে দিতে পারে।

জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে ‘২০০ সরকারি কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে একনেকে একটি প্রকল্প পাস হয়। এ প্রকল্পের অধীনে সিলেটে চারটি সরকারি কলেজে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত বছরের জুনে সিলেটে এ প্রকল্পের অধীনে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ প্রকল্পে জেলা সদরে দু’টির মধ্যে সিলেট সরকারি কলেজ ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ রয়েছে। এ দু’টি কলেজে ৬ তলা করে দু’টি ভবন পাস হয়েছে। কিন্তু নিয়মানুযায়ী, জেলা সদর হওয়াতে এ দু’টি কলেজে ৬ তলার স্থলে ১০ তলা ভবন হওয়ার কথা রয়েছে। এজন্য বর্ধিত ৪ তলা অনুমোদনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, এ প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে, ১০ তলা ভবন ১৫ কোটি ও ৬ তলা ভবন ৮ কোটি টাকা।

এদিকে, একই প্রকল্পের অধীনে জকিগঞ্জ সরকারি কলেজে ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত ভবনের ২০ ভাগের ওপরে কাজ শেষ হয়েছে বলে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। তারা এ-ও আশাবাদি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কলেজ ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।

আবার, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে নতুন আরেকটি ৬ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু দূরের কথা, জায়গা জটিলতার কারণে এখনো টেন্ডার আহ্বান করতে পারেনি শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ। এ বিষয়ে তারা বারবার কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোন সদুত্তোর পাচ্ছে না। সূত্রমতে, বিগত দু’সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক সমস্যা সমাধানে পরপর তিনটি সুরম্য বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এমনকি বিগত সরকারের একেবারে শেষ সময়ে তিনি আরেকটি ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেন। কলেজের দক্ষিণ প্রান্তের আগের প্রশাসনিক ও বিজ্ঞান ভবন ভেঙ্গে সেখানে গড়ে উঠছে দু’টি লিফট সম্বলিত নতুন এ ভবন। ইতিমধ্যে ভবনের ৪ তলার ছাদ ঢালাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের জন্য বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে জায়গা অনেকটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। এজন্য নতুন ৬ তলা ভবন করতে হলে কলেজের পশ্চিম প্রান্তের পুকুর ভরাট কিংবা কলেজের প্রধান ফটক ঘেঁষে পশ্চিম প্রান্তে স্থান নির্বাচন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি অনুশাসনের কারণে এ মুহূর্তে পুকুর ভরাট করা মোটেও সম্ভব নয়। আবার, প্রধান ফটকের পাশে নতুন বিল্ডিং হলে পুরো কলেজ আড়ালে পরে যাবে। প্রধান সড়ক থেকে কলেজের সৌন্দর্য কেউ উপভোগ করতে পারবে না। মূলতঃ এ কারণে সংশ্লিষ্টদের কাছে নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা অনেকটা হ্রাস পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণ হবে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে কয়েকটা বহুতল ভবনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিদ্যমান বিশাল ক্যাম্পাস রয়েছে। এখানে আরেকটি ৬ তলা নতুন ভবনের জন্য পুরো ক্যাম্পাস আড়াল করা যৌক্তিক হবে কি-না তা চিন্তা করতেই হবে। এ অঞ্চলের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করে সিদ্ধান্ত নিতে কলেজ প্রশাসনকে তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানান সাবেক এ মন্ত্রী।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. তারিকুল ইসলাম গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বিশিষ্টজনদের সাথে আলোচনা করে শিগগির নতুন ভবন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হবে। ভবন ফেরত যাওয়ার মতো সংশয়ের কোন অবকাশ নেই।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল হাকিম বলেন, জেলা সদরের দু’টি কলেজে ১০ তলা ভবনের অনুমোদন শিগগির পেয়ে যাবো। এছাড়া বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ৬ তলা ভবনের স্থান জটিলতা অচিরেই নিরসন হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, জটিলতা কেটে গেলে আগামী মাসেই টেন্ডার আহ্বান করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। -সিলেটের ডাক

 

Developed by :