Tuesday, 22 September, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




আগস্টে দুর্ঘটনায় ৫৫৩ প্রাণহানি, অধিকাংশই মোটরসাইকেল

বার্তা ডেস্ক: নানা পরিকল্পনার পরও দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। প্রতিযোগিতামূলক মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেবল আগস্ট মাসেই সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ৪৪৪ টি দুর্ঘটনায় ৫৫৩ জন নিহত এবং ৬৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যার অধিকাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন ৬১৮ জন। মোট দুর্ঘটনার ২৮.৯৮ শতাংশই হয়েছে মোটরসাইকেলে। তবে অধিকাংশ দুর্ঘটনাই বেপরোয়া গতির গাড়ি চাপা দেওয়ার কারণে ঘটেছেও বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদায়ী আগস্ট মাসে রেলপথে ১৫ টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। আর নৌ-পথে ৪১ টি দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ৫২ জন আহত এবং ৩১ জন নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া গেছে।

এমাসে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৮ জন চালক, ১২৫ জন পথচারী, ৮০ জন নারী, ৪৪ জন শিশু, ৩৮ জন শিক্ষার্থী, ২২ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ৬ জন পুলিশ, ১ জন বিমানবাহিনী, ১ জন সিআইডি ও ১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য। ৯ জন শিক্ষক, ৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৩ জন চিকিৎসক, ১ জন সাংবাদিক এবং ১ জন প্রকৌশলীর পরিচয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

এর মধ্যে নিহত হয়েছে ১৬৭ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৩ জন নারী, ৩৪ জন শিশু, ৩২ জন ছাত্র-ছাত্রী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৬ জন শিক্ষক, ৩ জন চিকিৎসক, ৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (৩ জন পুলিশ, ১ জন বিমানবাহিনী, ১ জন সিআইডি), ১ জন প্রকৌশলী ও ১ জন সাংবাদিক।

এমাসে সংগঠিত দুর্ঘটনায় ২৮.৯৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬১ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.১২ শতাংশ বাস, ৮.৭৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.৭৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.৭১ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৭.০৩ শতাংশ কার-জীপ-মাইক্রোবাস সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ৪ আগস্ট। এইদিনে ২৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ১৯ আগস্ট। ওই দিন ৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন।

মোট দুর্ঘটনার ৫২.৮৩ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৭.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৩.৯১ শতাংশ খাদে পড়ে, ৪.৮৯ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.২৫ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০.২৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যানে দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই মাসে মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৮.৯৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪.৬৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.১৫ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ২.০৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.২৫ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশকালে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ইজিবাইক উঠে আসায় এবং বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটরসাইকেলের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও বেপরোয়া চলাচল সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এছাড়াও সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস পদ্ধতি ঢেলে সাজানো ব্যাতিরেখে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়

 

Developed by :