Monday, 21 September, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ে সেপ্টেম্বরে!

# রোববার থেকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু

# মাঠে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কঠোর নজরদারি

ছাদেক আহমদ আজাদ৷।

সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজ যেন তার উত্তাল যৌবনের রাগ-ঢাক দেখায়। গত বছর এ সময়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৭৫-৩০০ টাকায়। এবারও ঊর্ধ্বমুখী বাজারে পেঁয়াজের ঝাঁজ কেজিতে ৩০ থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। আর ভরা মৌসুমে প্রতিকেজি শাকসবজি গড়ে ৪০-৫০ টাকার নিচে পাওয়াই যাচ্ছে না। আদার দামও কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। তবে, সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ন্যায্যমূল্যে টিসিবি পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন সংস্থা মাঠে রয়েছে।

সূত্রমতে, গত মৌসুমে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়। পর্যাপ্ত মজুদ ও আমদানি যথেষ্ট থাকার পরও এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। কারণ ছাড়াই আরো দাম বৃদ্ধির আভাস পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের আড়তে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করেছে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি রুখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) মাঠে নামানো হচ্ছে।

এ নিয়ে গত সোমবার বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটি। কারণ ছাড়াই হঠাৎ পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হওয়ায় বৈঠকে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে ছিল পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ‘দেশে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করেছে।

এছাড়া পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে টিসিবি অবিলম্বে খোলা বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করবে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।’

এ ব্যাপারে টিসিবি’র সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. ইসমাইল মজুমদার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে আগামী রোববার থেকে সিলেট অঞ্চলে টিসিবি কাজ শুরু করবে। প্রতি ভোক্তা পাবেন ২ কেজি করে পেঁয়াজ, চিনি, ডাল ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল। খুচরা বাজারে টিসিবি পণ্যের দাম হবে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা, চিনি ৫০ টাকা, ডাল ৫০ টাকা ও সয়াবিন তেল ৮০ টাকা বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

এদিকে, সিলেটের খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ও শাকসবজির দামের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কারণ ছাড়াই একেক সময় একেক দামে নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পর কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে ৩০০ টাকায় উঠলে কম সময়ের মধ্যে দামে ভাটা পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার কাঁচা মরিচের কেজি ১৮০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে কমে ৪০ টাকা, করোলা ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

নগরীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি পেঁয়াজ এলসি বড় ৪৩ ও ছোট ৪৫ টাকা এবং দেশি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় বাজারে গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম কিছুটা হলেও কমেছে।

এছাড়া, প্রতি কেজি শুকনো মরিচ ২৪০ টাকা, রসুন দেশি ছোট ৭০ ও বড় ৮০ টাকা, দেশি আদা ১৪০-১৫০ টাকা, চায়না ২২০-২৪০ টাকা, আলু বড় ৩৪-৩৫ টাকা ও ছোট ৪২-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ব্রক্ষময়ী বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, দাম বাড়তেই ভোক্তাদের মধ্যে পেঁয়াজ নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়েছে। এ কারণে আমাদের বিক্রিও কম হচ্ছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ আগের চেয়ে কিছুটা কম হচ্ছে। এজন্য যেকোন সময় দাম আরো বাড়তে পারে।

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পেঁয়াজ মজুদদারদের ওপর আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি। যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সিলেটে কেউ পেঁয়াজের দাম বাড়াতে না পারে। এতে জড়িত কাউকে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে, সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায় বেশক’টি সবজির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে, আবার অনেকগুলোর দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১০০, শশা ৩৫-৪০, ভেন্ডি ৪০, ঝিংগা ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, কাকরোল ৪০, পেঁপে ২৫, মুকি ২৫-৪০, লতা বেগুন ৪০, পটল ৫০, লুবি-উরি ৫০, মুলা ৩৫, বাঁধাকপি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি পিস মিষ্টি লাউ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫৫ ও পানি লাউ ৪০-৫০ টাকা।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে শাকসবজি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রচুর পরিমাণে হরেক রকম শাকসবজি বাজারে রয়েছে। প্রতিদিন দু’একটির দাম বাড়তি কিংবা কমতির দিকে থাকলেও সপ্তাহজুড়ে বেশিরভাগ শাকসবজির দাম স্বাভাবিক থাকে। এজন্য সবজির বাজার নিয়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি।

সিলেটের খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহ থেকে মসলা জাতীয় পণ্যের দামে কোন হেরফের লক্ষ করা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর একাধিক দোকার ঘুরে দেখা যায়, প্রকারভেদে বিক্রি হয়েছে প্রতি ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৪৬৫-৪৭৫ টাকা, প্রতি কেজি এলাচি ২৮০০ টাকা, দারুচিনি ৪০০, মশুর ডাল ছোট ক্যাংগারু ১৩০, ডাল বড় ৬০-৬৫, ছোলা ৬৫, চিনি ৫৮, মটর ৩৩, মুগ ডাল ১১৫-১২০, মোল্লা লবণ ১৮ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লবণ ২৬-২৮, আটা ৩২-৩৪, ময়দা ৪৩-৪৪, গুঁড়ো দুধ ৫৪৫, কাপড় কাচার পাউডার প্রকারভেদে ৮০ ও ১১৫ টাকা। এছাড়া, প্রতি কেজি গুঁড়ো মরিচ ব্র্যান্ড ৩৭০-৩৮০ ও স্থানীয় ৩০০ টাকা, হলুদ ১৭৫-২০০, ধনিয়া ২০০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

 

Developed by :