Monday, 21 September, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




করোনাকালে নিউইয়র্কে বিয়ের ধুম

বার্তা ডেস্ক: করোনাভাইরাসে থমকে যাওয়া নিউইয়র্কে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে। গ্রীষ্ম শেষের সময়টিতে স্বদেশিদের মধ্যে বিয়ে আয়োজনের ধুম লেগেছে। প্রায় ছয় মাসের রুদ্ধাবস্থা থেকে লোকজন বেরিয়ে আসছে। প্রায় প্রতি দিনই বাংলাদেশিদের বিয়ের আয়োজন থাকছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এমনকি হল বুকিং পেতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর নগরী নিউইয়র্ক, যেখানে ২৫ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। নিউইয়র্কের জনসমাজে এমন কোনো পরিবার নেই, যাদের কোনো স্বজন বা পরিচিতজনের মৃত্যু হয়নি এ মহামারিতে।

একদা মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠা এই নগরের প্রবাসীরাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। যদিও অনেকেই এখনো কাজে ফিরতে পারেননি। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অংশ হিসেবে বিবাহোত্তর প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতি সপ্তাহেই। মার্চের মাঝামাঝিতে সবকিছু লকডাউন হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে এ ধরনের আয়োজনে কিছুটা হলেও উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে কমিউনিটিতে। শিশুদের মধ্যেও এ উৎসব-আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে।

নিউইয়র্ক নগরীর জ্যাকসন হাইটস, ওজোন পার্ক, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে প্রায় ২০-২৫টি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে গত এক সপ্তাহের মধ্যে। এসব অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা জড়ো হয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। মৃত্যুর বিভীষিকা পেরিয়ে বহু দিন পর অনেকের সঙ্গে অনেকের দেখা হয়েছে। এমনই এক আয়োজন ছিল আশরাফুল আজিম ও ফারিহা তাহেরের বিবাহোত্তর প্রীতিভোজ। টানা পাঁচ মাস পর সবাই নতুন পোশাক পরে এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। হাসতে ভুলে যাওয়া মানুষেরা বহু দিন পর মেতে উঠেছিলেন নির্ভার আনন্দে।

বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচিতজনেরা পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার, একে-অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন। মহামারি ও মৃত্যু পেরিয়ে বিষণ্ন সময়ের ছাপ মুছে ফেলতে অনুষ্ঠানগুলোয় আগত অতিথিরা সচেষ্ট ছিলেন। তবে সবকিছুর পরও আলোচনার কেন্দ্রে বারবার চলে আসছিল করোনা-মহামারি। করোনায় যারা মারা গেছেন, তাঁদের জন্য গভীর শোক উচ্চারিত হয়েছে আনন্দঘন এসব আয়োজনেও।

গত জুন-জুলাই মাসে ডজনখানেক বিয়ের কর্মসূচি ছিল। সংশ্লিষ্টরা বিলাসবহুল হোটেলের বলরুম ভাড়াও করেছিলেন এসব বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য। কেউ কেউ দাওয়াতপত্র আগেই বিতরণ করেন। কিন্তু সবকিছু পণ্ড হয়ে যায় করোনার কারণে। এমনকি হলরুম বুকিংয়ের জন্য আগাম যে অর্থ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও ফেরত পাননি কেউ।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সময় ভালো হলে অন্য কোনো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সে অর্থের সমন্বয় ঘটানো হবে। এ অবস্থায় নিউইয়র্ক অঞ্চলে করোনার সংক্রমণ আশাব্যঞ্জকভাবে কমে যাওয়ায় ঝুলে থাকা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে করোনায় প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ মারা গেছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিকের মতো বাংলাদেশিও রয়েছেন। আর আক্রান্ত ৪ লাখ ৬২ হাজারের মধ্যে ৫ হাজারের বেশি ছিলেন প্রবাসী।

 

Developed by :