Thursday, 2 December, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




‘গুলি, বোমা, গ্রেনেড মোকাবেলা করেছি, অদৃশ্য শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে থাকব না’

বার্তা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস এখন বাস্তবতা। করোনার ভয়ে তো আমরা মানুষকে না খাইয়ে মারতে পারি না। তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থাটা আমাদের নিতে হবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি সেখানে লকডাউন করে তা আটকানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস সঙ্কট এবং সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমি সংসদে আসব, কিন্তু আমাকে অনেক জায়গা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ভীষণভাবে বাধা দেয়া হয়েছে, ‘না না আপনি যাবেন না, নেত্রী যাবেন না’। আমি বললাম গুলি, বোমা, গ্রেনেড কত কিছুইতো মোকাবেলা করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এখন কী একটা অদৃশ্য শক্তি তার ভয়ে ভীত হয়ে থাকব আর পার্লামেন্টের মেম্বার, আমাদের আওয়ামী লীগের পরিবারের একজন সংসদ তাকে হারিয়েছি আর আমাদের কেবিনেট সদস্য একজন- তাকে হারালাম আর সেখানে আমি যাব না! এটা তো হয় না।

শেখ হাসিনা বলেন, এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যেটা সত্যি খুব দুঃখজনক। করোনাভাইরাসের ভীতিটা প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বেই। এখানে উন্নত দেশ, অনুন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ, অস্ত্রের দিক থেকে শক্তিশালী, অর্থের দিক থেকে শক্তিশালী অথবা হয়তো দরিদ্র রাষ্ট্র- কোনো ভেদাভেদ নেই। সব যেন এক হয়ে গেছে এক করোনাভাইরাসের ভয় এবং আতঙ্কে। সব জায়গায় কিন্তু একই অবস্থা। আমেরিকা থেকে শুরু করে উন্নত পশ্চিমা দেশ থেকে এসে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায় এই ওয়েবটা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন আমরা একটি কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, দেশের দারিদ্র্যসীমা আমরা কমিয়ে এনেছি, দারিদ্র্যসীমা মাত্র ১০ বছরে ৪০ ভাগ থেকে আমরা ২০ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি, আমাদের জিডিপি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছিলাম। আমাদের আশা ছিল মুজিববর্ষ উদযাপন করবো। কিন্তু এসময় এক অদৃশ্য শক্তি, করোনাভাইরাস যা কেউ চোখে দেখতে পারে না, বুঝতেও পারে না- সারা বিশ্বটাকে স্থবির করে দিল, সারাবিশ্বে যেন কেমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করল। একটা আতঙ্ক-ভয়-ভীতি, মৃত্যু আতঙ্ক যেন সারা বিশ্বকে পেয়ে বসেছে। এটাই হচ্ছে অদ্ভুত ব্যাপার।

প্রধানমন্ত্রী সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে স্মরণ করেন। তুলে ধরেন তাদের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অবদানের কথা।

মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের বেগম মতিয়া চৌধুরী, হাবিবে মিল্লাত, মৃণাল কান্তি দাস, বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুতফুল্লাহ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

এরপর মোহাম্মদ নাসিম ও অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা প্রর্দশনে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

 




 

Developed by :