Monday, 6 July, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




অনুসন্ধান: বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা সোয়া ৬ কোটি টাকা

বৈশ্বিক করোনায় সুদৃঢ় প্রবাসী-স্বজন সম্পর্ক

ছাদেক আহমদ আজাদ

    বৈশ্বিক করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সিলেটের প্রত্যেক উপজেলায় সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশি-বিদেশি সবাই সংকটাপন্ন, এজন্য এবার প্রবাসী সাহায্য তুলনামূলক কম হবে এমন ধারণা ছিল অনেকেরই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রবাসীরা সকল ধারণা ভুলে প্রমাণ করেছেন। তাঁরা নিজেরা সংকটের কথা ভুলে অতীতের চেয়ে দু’হাত প্রসারিত করেছেন আরো বেশি। এ কারণে করোনায় সিলেটে প্রবাসী-স্বজন সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছে।

প্রবাসীদের এ বাড়ানো হাতকে কৃতজ্ঞ চিত্তে সরণ করছেন জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের নেতারা। এর মধ্য দিয়ে জন্মমাটির প্রতি প্রবাসীদের অন্তরের আকুলতা বা হৃদয়জ ভালোবাসার বন্ধন আরো প্রকট ও মজবুত হয়েছে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীদের সাহায্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতেই দেশের উন্নতিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সহযোগিতা ছাড়া এই কঠিন মুহূর্ত পার হওয়া আমাদের জন্য কঠিন হবে। তিনি প্রবাসীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাহায্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সুয়েব বলেন, করোনাকালে প্রবাসীরা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে নিঃস্বার্থভাবে সিলেটের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া প্রবাসীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের সকল দুর্যোগে আমাদের পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। প্রবাসীরা এবার ধারণার চেয়ে বেশি সাহায্য করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, করোনাভাইস সংক্রমণকালে সিলেটের অন্যান্যা উপজেলার মতো বিয়ানীবাজারেও প্রবাসীরা গত দেড় মাসে পিপিই, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী মিলে প্রায় সোয়া ৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছেন। এসবের উপকারভোগীদের মধ্যে ডাক্তার, নার্স, কোরআনে হাফেজ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, সনাতন ধর্মাবলম্বী, অসহায়, দুস্থ ও নিম্ন আয় মানুষ রয়েছেন। তাঁরা এ আর্থিক সাহায্য নিয়ে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধুমাত্র বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি মিলে দৃশ্যমান আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন ৫ কোটি সাড়ে ২৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও প্রাপ্ত তথ্যের বাইরে এবং নিরবে সহায়তার পরিমাণ কমপক্ষে আরো এক কোটি টাকা হবে। ৩ লক্ষ মানুষের এ উপজেলায় প্রবাসীদের পাঠানো অনুদান সায়ো ৬ কোটি টাকার ওপরে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি প্রাজ্ঞ সমাজকর্মী লোকমান আহমদ বলেন, প্রবাসীদের মন-মানসিকতা খুবই ভালো। তারা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তা অতুলনীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, আমাদের স্বজনরা যতদিন প্রবাসে থাকবে দুর্যোগ মুহূর্তে সাহায্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। এজন্য আমরা সত্যিই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে, যেসব সংগঠন আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে, তাদের মধ্যে বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে প্রায় দু’লক্ষ টাকা, বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (নাজিম-টিপু-শিপন) ইউকে ১৫ লক্ষ, বিয়ানীবাজার ইয়ুথ এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক ১২ লক্ষ, বিয়ানীবাজার থানা জনকল্যাণ সমিতি ইউকে প্রায় ৪ লক্ষ, ইউনাইটেড বিয়ানীবাজার ইউকে সাড়ে ৮ লক্ষ, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লবের সহায়তা ফান্ডে প্রবাসীদের প্রায় ৭ লক্ষ ও ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেনের সহায়তা ফান্ডে প্রবাসীদের প্রায় ৬ লক্ষ, শ্রীধরা গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সুহেল আহমদ ও তার বন্ধুদের সাড়ে ৬ লক্ষ, বিয়ানীবাজার সমিতি ক্যুইবেক কানাডার দুই লক্ষ, ওয়াল্ড বিডি হিউম্যান হেল্প এসোসিয়েশন প্রায় দেড় লক্ষ, বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সংস্থা (সংযুক্ত আরব আমিরাত) দুই লক্ষ, আল মোস্তফা ট্রাস্ট ইউকে প্রায় ৫০ হাজার, দি হিউমেন্টারিয়ান এন্ড সেভিং লাইভস ট্রাস্ট ইউকে দেড় লক্ষ, খায়রুল ইসলাম খোকন ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০ হাজার টাকার অনুদান উপজেলাব্যাপী বিতরণ করেছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান বলেন, বঙ্গবন্ধুন কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। এমনকি এ মহামারিতে তিনি শুধু অসহায় নয়, প্রয়োজনমতো সব শ্রেণিপেশার মানুষকে সরকারি অনুদান দিচ্ছেন। এমনকি তিনি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সাহায্য পাঠিয়েছেন।

নাসির খান বলেন, প্রবাসীরা বিয়ানীবাজারসহ সিলেটে যে আর্থিক অনুদান দিচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদেরকে অভিনন্দন জানান এবং দুর্যোগে পাশে থাকার অনুরোধ করেন।

এছাড়া, বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডে প্রবাসীরা ৪২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এরমধ্যে শ্রীধরা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে প্রায় ৮ লক্ষ, প্রবাসীদের অর্থায়নে ডিএসপি ক্লাব প্রায় আড়াই লক্ষ ও প্রভাতী যুব সংঘ আড়াই লক্ষ, লন্ডন প্রবাসী মৃত সবুর মিয়ার স্ত্রী দেড় লক্ষ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর পরিবার ২ লক্ষ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাজী শফিক উদ্দিন এক লক্ষ, হাজী বাজিত রহমান এক লক্ষ ও আব্দুল আহাদ ২ লক্ষ, বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাজী আব্দুল কুদ্দুস টিটু প্রায় দেড় লক্ষ, মরহুম আব্দুর রহিম বছন হাজীর সন্তানদের ৮ লক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডা. মাহফুজুর রহমান খালেদ এক লক্ষ টাকা, ফ্রান্স প্রবাসীদের ৫০ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শ্রীধরা-নবাং ট্রাস্টের আরো ১০ লক্ষ টাকা বিতরণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে ।

বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার শুধুমাত্র কসবা-খাসা গ্রামে প্রবাসীরা প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে গোলাবশাহ সমাজকল্যাণ সংস্থা ইউএসএ ৪ লক্ষ, কসবা-খাসা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে ৫ লক্ষ ৬০ হাজার, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হাফিজুর রহমান হিরা ২ লক্ষ, ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে প্রবাসীদের আরো অনুদান প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা।

পৌর এলাকার ফতেহপুর সমাজকল‍্যান সংস্হা প্রবাসীদের অর্থায়নে ৫ লক্ষাধিক টাকা, নিদনপুর-সুপাতলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে সাড়ে ৩ লক্ষ, কানাডা প্রবাসী আহবাব হোসেন সাজু প্রায় ১০ লক্ষ ও তাঁর পরিবার আরো ৩ লক্ষ, সুপাতলা প্রবাসী জনকল্যাণ ট্রাস্ট দেড় লক্ষ টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে বন্ধু মহল ফাউন্ডেশন নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ১৫ লক্ষ ও বিয়ানীবাজার ক্রিকেট এসোসিয়েশন প্রায় দুই লক্ষ টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। ১৭ লক্ষ

আলীনগর ইউনিয়নে প্রবাসী ব্যক্তি ও সংগঠন মিলে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী আলীনগর সমিতি ইউকে প্রায় ৪ লক্ষ, আলীনগর সমাজকল্যাণ সংস্থা ইউকে প্রায় দেড় লক্ষ, শাহীন-খালিক ফ্যামেলি ফাউন্ডেশন ৩ লক্ষ, মজির উদ্দিন শিক্ষা কল্যাণ ফাউন্ডেশন ৩ লক্ষ, মুহিবুন নেছা চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্ট ৩ লক্ষ, প্রবাসী রায়খাইল সমাজকল্যাণ সংস্থা ৩ লক্ষ, ফরেন রেঞ্জার এক লক্ষ, আনোয়ারা-খালিক ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন ৫০ হাজার, আয়ারল্যান্ড প্রবাসী সাইফুল রহমান বাবলু ৫ লক্ষ টাকা এবং প্রবাসীদের ব্যক্তিগত অনুদান আরো ৫০ লক্ষ টাকা।

চারখাই ইউনিয়নে প্রবাসীরা প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে চারখাই ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে সাড়ে ৫ লক্ষ, চারখাই সমাজকল্যাণ সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র ৫ লক্ষ, সেইভ চারখাই এসোসিয়েশন এক লক্ষ, ইএইচএন যুক্তরাজ্য ২ লক্ষ, আইয়ুব সুফিয়া ফাউন্ডেশন ২ লক্ষ, অসহায়দের পাশে আমরা চারখাই প্রবাসী ৭ লক্ষ, গরীবের সাহায্যে এগিয়ে আসো ২ লক্ষ, হাজী ইব্রাহীম আলী এডুকেশন ট্রাস্ট ৫০ হাজার, আকিমুন নেছা এডুকেশন ট্রাস্ট ৭০ হাজার, ডিকে প্রবাসী এইড এক লক্ষ, প্রবাসী গৌছ উদ্দিন দেড় লক্ষ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবির আহমদ এক লক্ষ, সুহেল আহমদ এক লক্ষ ও টিপু সুলতান এক লক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাহাব উদ্দিন প্রায় এক লক্ষ ও শামীম আহমদ এক লক্ষ, ফ্রান্স প্রবাসী ফয়েজ আহমদ দুলুর এক লক্ষ টাকা রয়েছে।

দুবাগ ইউনিয়নে শেখজিগর কল্যাণ ট্রাস্ট খাড়াভরা সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা, সেলিমবাগ ফাউন্ডেশন মেওয়া ৫ লক্ষ, দক্ষিণ চরিয়া প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট দুই লক্ষ, উত্তর দুবাগ প্রবাসী কল্যাণ ট্রাস্ট ৩ লক্ষ, মেওয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গায় লন্ডন ও আমেরিকা প্রবাসীদের উদ্যোগে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়ারবাজার ইউনিয়নে কুশিয়ারা কল্যাণ সংঘ ফ্রান্স দেড় লক্ষ, উত্তর আকাখাজানা প্রবাসী ট্রাস্ট প্রায় ৯ লক্ষ, বিয়ানীবাজার এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে লিমিটেড প্রায় এক লক্ষ, আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে প্রায় ১২ লক্ষ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলকাছ আলী প্রায় ৩ লক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রায় ৪ লক্ষ, আঙ্গারজুর এলাকায় প্রবাসীদের প্রায় ৩ লক্ষ টাকার খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে মাহবুব হোসেন জুয়েল, রেজাউল হক ও মাহমুদ হোসেন।

মাথিউরা ইউনিয়ন কেন্দ্রীক বিতরণ করা হয়েছে ৩০ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে মাথিউরা সমিতি নিউইয়র্ক ১২ লক্ষ ও মিশিগান প্রায় দুই লক্ষ, পুরুষপাল প্রবাসী ৭ লক্ষ, মাথিউরা উন্নয়ন সংস্থা ইউকে’র প্রায় ৮ লক্ষ, নালবহর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র প্রায় ৬ লক্ষ টাকা রয়েছে।

তিলপাড়া ইউনিয়নে বিয়ানীবাজার বার্তা ফাউন্ডেশন প্রায় দুই লক্ষ, দাসউরা সমাজকল্যাণ সমিতি ইউকে দুই লক্ষ ও প্রবাসীদের আরো প্রায় দুই লক্ষ, কামারকান্দি প্রবাসী উন্নয়ন ট্রাস্ট প্রায় এক লক্ষ, ইউনাইটেড ভিলেজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে প্রায় আড়াই লক্ষ, দাসউরা-রজব সোনালী যুব সংঘ প্রায় এক লক্ষ, সাবেক ইউপি সদস্য ইসলাম উদ্দিনের প্রবাসী পুত্রদের প্রায় ৪ লক্ষ টাকা, পীরেরচকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আনসার উদ্দিন ৩ লক্ষ, পূর্ব দেবারাই-দক্ষিণ খাগাইল প্রবাসী প্রায় ৭ লক্ষ, আলহাজ তেরাব আলী প্রায় দু’লক্ষ, আ’লীগ নেতা সৈয়দ আব্দুল আজিজ প্রায় এক লক্ষ টাকার সহায়তা প্রদান করেছেন।

মোল্লাপুর ইউনিয়নে পাতন প্রবাসী উন্নয়ন সংস্থা ১২ লক্ষ টাকা, মোল্লাগ্রাম ফ্রেন্ডস সোসাইটি প্রায় ১১ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

মুড়িয়া ইউনিয়নের বৃহত্তর ঘুঙ্গাদিয়া প্রবাসীদের দু’ধাপে সাড়ে ৮ লক্ষ ও ৬ লক্ষ টাকা, ছোটদেশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে প্রায় ৩ লক্ষ, আমেরিকা প্রবাসী প্রায় ৪ লক্ষ, প্রবাসীবৃন্দ সাড়ে ৩ লক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মাহবুবুর রহমান ২ লক্ষ ও নুরুল ইসলাম এক লক্ষ টাকা, পূর্ব মুড়িয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাব্বির উদ্দিন ও ইতালি প্রবাসী মাছুম আহমদের ৩ লক্ষ টাকা।

লাউতা ইউনিয়নে কালাইউরা আল ইহসান ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ ৬ লক্ষ, বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি পেনসিলভেনিয়া ইনক এর সভাপতি মাশুকুল ইসলাম খান ও তার পরিবার ১৫ লক্ষ, লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক্স প্রবাসী স্টুডেন্ট প্রায় ৪ লক্ষ টাক, বাউরভাগ প্রবাসী প্রায় ৩ লক্ষ, কাতার প্রবাসী আতিক উদ্দিন প্রায় এক লক্ষ, সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ জলিল, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস নুরুজ্জামান সুহেল ও আব্দুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাবেক পারভেজ আহমদ, নাঈমুল হাসান ও কামরান আহমদের প্রায় ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

প্রবাসীদের সহায়তা প্রসঙ্গে জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইউকে’র সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাধিক সিলেটি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা গত দু’মাস এক মুহূর্তের জন্য ঘর থেকে বের হতে পারিনি। তারপরও দেশের স্বজনদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রবাসীরা শুধুমাত্র ফেসবুক, হোয়াটসআপ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত কিংবা সংগঠনের মাধ্যমে দেশে ফান্ড পাঠিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের ধন্যবাদ দিতে হবে না; শুধু আন্তরিকতা ও দোয়া থাকলেই চলবে।

কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুহিব আরো বলেন, বিয়ানীবাজারে সোয়া ৬ কোটি টাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন শোনে ভালো লাগল। সর্বদা দেশের স্বজনদের পাশে থাকার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

Developed by :