Monday, 6 July, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সিলেটে বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন : লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি

ছাদেক আহমদ আজাদ: সিলেট অঞ্চলে বোরো ধান কর্তন প্রায় সম্পন্ন। এবাার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। গতবারের চেয়ে উৎপাদন বেশি হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মে. টন চাল। সব মিলিয়ে এবার শেষ পর্যন্ত ১৮ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৭২ মে. টন চাল উৎপাদন হবে। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈশি^ক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের মধ্যে এ অঞ্চলে বোরো ধান কর্তনের লোক পাওয়া যাবে কি-না এ নিয়ে শুরুতেই যথেষ্ট আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এ কারণে প্রথমদিকে অনেকটা তাড়াহুড়ো করে ধান কর্তন করা হয়েছে। তবে, ধান কর্তনের মেশিন, মাড়াই যন্ত্র প্রদানসহ সরকারের নানা রকম সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বিনা প্রতিবন্ধকতায় বোরো ধান কর্তন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের এসব দূরদর্শী সিদ্ধান্তে উপকারভোগী কৃষকদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি তারা স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতায় সন্তোষও প্রকাশ করেছেন।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৪ হেক্টর জমির বোরো ধান কর্তন করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ ২৩ হাজার ১৮৩ মে. টন ধান বা চাল উৎপাদন হয়েছে ১৮ লক্ষ ৮২ হাজার ১২২ মে. টন। অবশিষ্ট মাত্র ১৪১ হেক্টর জমির বোরো ধান খুব অল্প সময়ের মধ্যে কর্তন করা হবে। এসব জমি থেকে আরো সাড়ে ৫শ’ মে. টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর। যার পরিমান ছিল ১৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ২০৬ মে. টন চাল।

# সিলেট ৩০৮০৪৬ মে. টন চাল

#মৌলভীবাজার ২০৪১১০ মে. টন

# হবিগঞ্জ ৫০৫৯৭৩ মে. টন

# সুনামগঞ্জ ৮৬৩৯৯৩ মে. টন

কৃষি বিভাগ সূত্রমতে, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং হাওড়ের পুরো ধান কর্তন সম্ভব হওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩০৮ মে. টন চাল উৎপাদন বেশি করা সম্ভব হয়েছে। গত বছর চাল উৎপাদন হয়েছিল ১৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮১৪ মে. টন।

জানা যায়, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের মিলে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৮০ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ৫৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর, হবিগঞ্জে এক লক্ষ ২০ হাজার ৮০০ হেক্টর ও সুনামগঞ্জে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছিল। গতকাল সোমবার পর্যন্ত মৌলভীবাজার ব্যতীত বিভাগের অপর ৩ জেলায় শতভাগ জমির বোরো ধান কর্তন করা হয়েছে। যা থেকে আনুমানিক ১৮ লক্ষ ৮২ হাজার ১২২ মে. টন চাল কৃষকের গোলায় উঠেছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার ১৮৩, উফশী ১৪ লক্ষ ২৫ হাজার ১৩৪ ও স্থানীয় জাতের ১৯ হাজার ৮০৫ মে. টন চাল রয়েছে।

আবার, মৌলভীবাজারে এ পর্যন্ত শতকরা ৯৯.৭৩ ভাগ বোরো জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। এ জেলার অবশিষ্ট শতকরা ০.২৭ ভাগের ১৪১ হেক্টর জমির বোরো ধান শিগগির কর্তনের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট অফিস।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক শ্রী নিবাস দেবনাথ এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘এবার বোরো ধানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব নেই কিংবা ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করেনি। এমনকি ধানে চিটা নেই বললেই চলে। কৃষক ও কৃষি বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবার বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের দেয়া তথ্য মতে, এবার সিলেট জেলায় হাইব্রিড ৮ হাজার ৬০ হেক্টর, উফশী ৬৫ হাজার ৮৭৮ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৬ হাজার ৬২৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ ও কর্তন করা হয়। এ থেকে মোট ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৪৬ মে. টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৩৮ হাজার ৫২৭ মে. টন, উফশী ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৫ মে. টন ও স্থানীয় জাতের ১৩ হাজার ২৫৪ মে. টন চাল রয়েছে।

এদিকে, মৌলভীবাজার জেলায় বোরো ধানের আবাদ করা হয় হাইব্রিড ৫ হাজার ০৫ হেক্টর, উফশী ৪৮ হাজার ১৫৭ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৩৬৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের শতভাগ এবং উফশী ৪৮ হাজার ১৬ হেক্টর জমির বোরো ধান ইতিমধ্যে কর্তন করা হয়েছে। যা থেকে ২ লক্ষ ৪ হাজার ১১০ মে. টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ২৩ হাজার ৫২৪ মে. টন, উফশী এক লক্ষ ৭৯ হাজার ৯২৪ মে. টন ও স্থানীয় জাতের ৬৬২ মে. টন চাল রয়েছে। অবশিষ্ট উফশী জাতের ১৪১ হেক্টর জমির বোরো ধান কর্তন করা হলে তা থেকে প্রায় সাড়ে ৫শ’ মে. টন চাল উৎপাদন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

একইভাবে, হবিগঞ্জ জেলায় হাইব্রিড ৪২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর, উফশী ৭৭ হাজার ৯৭০ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ ও কর্তন করা হয়েছে। মাড়াই শেষে এ থেকে মোট ৫ লক্ষ ০৫ হাজার ৯৭৩ মে. টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ২ লক্ষ এক হাজার ৭০৯ মে. টন, উফশী ৩ লক্ষ ০৪ হাজার ৮৩ মে. টন ও স্থানীয় জাতের ১৮১ মে. টন চাল রয়েছে।

অপরদিকে, সুনামগঞ্জ জেলায় হাইব্রিড ৩৬ হাজার ৫১০ হেক্টর, উফশী এক লক্ষ ৭৯ হাজার ৭৫৪ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ৩৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ ও কর্তন করা হয়েছে। তিন জাতের এসব বোরা ধান থেকে মোট ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৯৩ মে. টন চাল উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড এক লক্ষ ৭৩ হাজার ৪২৩ মে. টন, উফশী ৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৬২ মে. টন ও স্থানীয় জাতের ০৫ হাজার ৭০৮ মে. টন চাল রয়েছে।

এদিকে, সিলেট অঞ্চলে কৃষকের নিকট হতে সরাসরি বোরো ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। এবার বিভাগের ৪ জেলা থেকে ৬৯ হাজার ৮৮৬ মে. টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ১৬৭৯ দশমিক ৭৬ মে. টন ধান ক্রয় করা হয়েছে।

 

Developed by :