Thursday, 9 April, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বঙ্গবন্ধু আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ : সাবেক মন্ত্রী নাহিদ

সিলেট: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, বাঙালির হাজার বছরের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের মহানায়ক হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। তাই, বঙ্গবন্ধু আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা আমাদের জন্য গৌরব ও আনন্দের।

গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ‘মুজিববর্ষ জাগাক হর্ষ, চেতনায় বিশ্বাসে’ স্লোগানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন ‘দিলদরিয়া’ এবং বড়মাপের নেতা। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার কাজে হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেয়নি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সম্ভাবনা রেখে গেছেন, তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিকে অগ্রসর হওয়ায় আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য দেশ এখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে বেরিয়ে দুনিয়ার বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ গতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ হলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) সাখাওয়াত হোসেন শফিক ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (ময়মনসিংহ বিভাগ), কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সহ সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খান।

নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বেশি করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি পড়তে হবে। তাহলে বঙ্গবন্ধুর সততা, বিশ্বাস, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং বহুমাত্রিক রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে সরকারের নবযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথামতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে, হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ এবং অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই আওয়ামী লীগে নেই। অথচ, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা জাতির পিতাকে দেখেনি, তারা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালন করে তৃপ্ত হচ্ছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো সাহসী উত্তরসূরি হতে চাই।

সাবেক ছাত্রনেতা শফিক আরো বলেন, সিলেটে সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। একজন কারিগর হিসেবে জেলা ও মহানগর আ’লীগকে মডেল করতে পারলেই দায়িত্ব পাওয়াটা স্বার্থক হবে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসসহ যেকোন দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, স্বাধীন দেশে বেঁচে থাকার অধিকার পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে। তিনি বাঙালির অধিকার প্রশ্নে কখনো কারো সাথে আপস করেননি। বরং সকল আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের রেফারেন্ডামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

সাবেক ছাত্রনেতা নাদেল আরও বলেন, রাজনীতিতে আমাদের মধ্যে মতভেদ-মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকবো।

সাবেক মেয়র কামরান বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসার শাশ্বত নাম হলো শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু দূরদর্শী নেতা ছিলেন। কখন কি করতে হবে তা ভালো করে জানতেন এবং বুঝতেন। এ কারণে সঠিক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছিলেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, বর্ণাঢ্য আয়োজনে আমরা ২০ দিনব্যাপী মুজিববর্ষ পালনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু, করোনাভাইরাসের কারণে মুজিববর্ষ অনুষ্ঠানমালার ১২তম দিনে আমরা অনুষ্ঠান স্থগিত করলেও পরবর্তীতে অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে যে অনুষ্ঠানমালা ছিল তা সম্পন্ন করা হবে।

তিনি অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, দলের নেতাকর্মীসহ যারা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছেন-তাদের প্রতি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, মুজিবর্ষের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভালোবাসার মিলন ঘটেছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও তাতে ব্যত্যয় ঘটবে না। মিলন আরো অটুট ও সুদৃঢ় হবে। তিনি সহযোগিতার জন্য অতিথি, শ্রোতাসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান জামিল। গীতা পাঠ করেন সাবেক ছাত্রনেতা সজল কুমার চৌধুরী। পরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ এবং অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন হিমাংশু বিশ্বাস, বাউল আব্দুর রহমান ও বাউল সূর্য লাল।

 

Developed by :