Wednesday, 8 April, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




যুবলীগ নেতা সলিট খানের নেতৃত্বে মহাজনপট্টিতে হামলা

সিলেট: মহানগর যুবলীগ নেতা সলিট খান মুনের নেতৃত্বে নগরীর মহাজনপট্টিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগের একদল নেতাকর্মী নিয়ে তিনি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘দৈনিক সিলেট মিডিয়া’ অফিসে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেছেন বদরুল ইসলাম বেলাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি উপশহর এ ব্লকের বশির আহমদের ছেলে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েলের বড় ভাই।

হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই সিলেট কোতোয়ালী থানায় সলিট খান মুনকে প্রধান আসামী করে মামলা হয়েছে। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামী করা হয়েছে। সলিট খান মুন ছাড়া এজহারনামীয় অন্য আসামীরা হলেন, কাশেম, নজরুল, জামাল ও রূপম। এর মধ্যে বুধবার ভোর রাতে কাশেমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জুয়েল জানান, গত কয়েকদিন আগে একব্যক্তি মহাজনপট্টিতে তাদের একটি দোকান গুদামের জন্য ভাড়া নেওয়ার জন্য আলাপ আলোচনা করেন। আগামী মাস থেকে তিনি গুদাম ভাড়া নেওয়ার কথা। এর মধ্যে ওই ব্যক্তি গুদামে কিছু বোতলজাত কোমল পানীয় (স্প্রিড) এনে রাখেন। এর মধ্য থেকে এক কেইস পানীয় খোয়া যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে সলিট খান মুনসহ কয়েকজন এসে তার ভাই বদরুল ইসলাম বেলাললে গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দিয়ে যান। এসময় মোটা অংকের চাঁদাও দাবি করেন তারা। বিষয়টি তারা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে অবগত করেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যুবলীগ নেতা সলিট খান মুন ও যুবলীগ নেতা রুপম, নজরুল ও জামালের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন যুবক গিয়ে মহাজনপট্টিস্থ বেলালের ‘দৈনিক সিলেট মিডিয়া’ অফিসে হামলা চালায়। এসময় তারা মারধর করে বেলালকে রক্তাক্ত জখম করে বলে অভিযোগ করেন জুয়েল। বেলালকে রাতেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত বেলালের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শেখ মনসুর বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়।

হামলা প্রসঙ্গে যুবলীগ নেতা সলিট খান মুন বলেন, যুবলীগ নেতা নজরুল ব্যবসার জন্য বেলালের কাছ থেকে একটি গুদাম ভাড়া নিয়েছিলেন। এজন্য তিনি একলাখ টাকা জামানতও প্রদান করেন। জামানত বাবত আরও এক লাখ টাকা দিয়ে চুক্তিনামা সম্পাদনের কথা ছিল।

সোমবার নজরুল পিকআপে করে মালপত্র নিয়ে যান গুদামে। গিয়ে দেখেন গুদামের তালা পাল্টে ফেলা হয়েছে। এসময় বেলালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গুদাম অন্যজনকে ভাড়া দিয়েছেন বলে জানান। এনিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বেলাল ও তার লোকজন পিকআপটি আটকে ফেলেন।

মঙ্গলবার রাতে নজরুল ফের গোদামে গেলে তাকেও আটকে রাখেন বেলালের লোকজন। খবর পেয়ে যুবলীগের কিছু ছেলে সেখানে গেলে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনার সময় নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন সলিট খান মুন।

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া জানান, হামলার ঘটনায় থানায় ৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কাশেম নামের এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 




Developed by :