Tuesday, 7 July, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




ছিনতাইকারীর কবলে সিলেটের নারীর মৃত্যু: প্রধান সন্দেহভাজন বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ঢাকা: দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর মুগদায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সোমবার ভোরে রাজধানীর খিলগাঁও নগদারপাড় এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) মো. আসাদুজ্জামানের ভাষ্য।

পুলিশ বলছে, নিহত মান্নান ওরফে মনা মুগদা এলাকার একটি ছিনতাইকারী দলের ‘হোতা’। ওই ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েই গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে মুগদা স্টেডিয়ামের সামনে রিকশাআরোহী সিলেটের তারিনা বেগম লিপির (৩৮) মৃত্যু হয়।

পুলিশ উপ-কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, লিপির মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার রাতে চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে মনাকে গ্রেফতারের জন্য ভোর রাতে খিলগাঁও নাগদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

“পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোড়ে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলি থামার পর মনাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান।

উপ-কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ‘ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত’ দুটি প্রাইভেটকার, এক রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি ‘ছিনতাইকারীরা’ পালিয়ে গেছে।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোর পৌনে ৬টার দিকে মুগদা স্টেডিয়ামের সামনে রিকশায় করে স্বামী ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে যাচ্ছিলেন তারিনা বেগম লিপি (৩৮)। তাদের রিকশা মুগদা স্টেডিয়াম এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে এক ছিনতাইকারী লিপির হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। এ সময় ব্যাগসহ রিকশা থেকে নিচে পড়ে মাথায় আঘাত পান লিপি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় শনিবার রাতে মিজুয়ান মিয়া (২৯), শেখ লিটন (৩৮), মো. আবদুল মজিদ (৩৩) ও মো. রফিক হাওলাদার (৪২) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “লিপির মৃত্যুর ওই ঘটনায় মিজুয়ান মিয়া আর মান্নান ওরফে মনা সরাসরি জড়িত ছিল। মনা গাড়ি ভাড়া করাসহ যাবতীয় কাজের দায়িত্বে ছিল।”

 

Developed by :