Friday, 15 October, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




কলেজ শিক্ষকের নাক ফাটালেন আরেক শিক্ষক

কুমিল্লা: বাড়ি ভাড়াসহ নানা দাবিতে কুমিল্লার লালমাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন শিক্ষকদের একটি পক্ষ। সেই সঙ্গে নানা অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের অব্যাহতি চেয়ে ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

এ অবস্থায় আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে অধ্যক্ষের অনুসারী শিক্ষকরা কথা বলতে গেলে মামুনুর রশিদ নামে এক শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের দুই পক্ষের এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ কলেজ ক্যাম্পাস ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শনিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালমাই সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাড়া না দেয়াসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহতি দাবি করে আসছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অধ্যক্ষ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দুই পক্ষে বিভক্ত হন।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে শিক্ষক পরিষদ ও কর্মচারীবৃন্দ ব্যানারে অধ্যক্ষের অব্যাহতি চেয়ে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের শিক্ষকরা কলেজের শ্রেণিকক্ষ, একাডেমিক ভবন ও অধ্যক্ষের কার্যালয়সহ প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। বেলা ১১টার দিকে অধ্যক্ষ ও তার পক্ষের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলতে গেলে শিক্ষক মামুনুর রশিদকে ঘুষি দিয়ে নাক ফাটিয়ে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার স্নাতক (সম্মান) শিক্ষা কার্যক্রমে প্রথম সাময়িক অধিভুক্তি সংক্রান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠি জালিয়াতি করেছেন। এছাড়া তিনি পরীক্ষার ফরম পূরণের সম্মানী, বিশেষ ক্লাস, মডেল পরীক্ষা, সেমিস্টার, ইনকোর্স পরীক্ষা, ভর্তি বাবদ সম্মানীসহ নানা খাতে অনিয়ম করে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিলেও আমাদের বাড়ি ভাড়া প্রদানসহ ন্যায্য দাবিগুলো মানছেন না। এ বিষয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে কর্মসূচি পালন করছি।

তিনি বলেন, কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষক মামুনুর রশিদ বিরূপ মন্তব্য করায় কলেজের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর আবদুল মান্নান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তার নাকে-মুখে রক্ত বের হয়। তবে এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার বলেন, কলেজটি সবেমাত্র জাতীয়করণ হয়েছে। আমি ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি জালিয়াতিসহ কিছু অভিযোগ আছে, যা আমার পূর্ববর্তী অধ্যক্ষের সময়ের হলেও তারা আমার ওপর দায়ভার চাপিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়ার পাওয়ার দাবি ন্যায্য, শিক্ষক হিসেবে এটি আমারও দাবি। তবে এ দাবি বাস্তবায়ন হবে সরকারি আদেশে। কিন্তু এক্ষেত্রে কতিপয় শিক্ষক আমাকে দায়ী করে আরও কিছু অভিযোগ তুলে অব্যাহতি চেয়ে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে গ্রুপিং সৃষ্টি করে কলেজের সার্বিক কর্মকাণ্ড স্থবির করে দিয়েছেন। তারা একজন শিক্ষককে মারধর করে রক্তাক্ত করেছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মো. আবদুর রহিম বলেন, বিভিন্ন দাবি নিয়ে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। একজন শিক্ষককে মারধর করে রক্তাক্ত করার ঘটনা দেখে বিস্মিত হয়েছি আমরা। শিক্ষকরা শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষের সামনে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তা মেনে নেয়া যায় না। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিয়া মোহাম্মাদ কেয়াম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। কলেজে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বসে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Developed by :