Wednesday, 4 August, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




আসক্তি কাটছে গৃহিণীদের

পেঁয়াজের চড়া দামে স্থিতি

ছাদেক আহমদ আজাদ

পেঁয়াজ লঙ্কাকাণ্ডে কাবু হয়েছেন গৃহিণীরা। এখন তারা আগের চেয়ে কম পেঁয়াজে সু-স্বাদু রান্নায় অভ্যস্ত হয়েছেন। এজন্য চড়া দামের বাজারে ভাটা পড়ায় বিক্রি কমেছে অর্ধেকের চেয়ে বেশি।

গতকাল রোববার পর্যন্ত সিলেটের খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১৮০ টাকায়। যা দীর্ঘ ৩ মাসের উর্ধ্বমুখী বাজারে সর্বনিম্ন বলে জানা গেছে। তবে, ডিসেম্বরের এ পর্যন্ত পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আগামীতে দাম বাড়বে, না কমবে এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে সিলেটে নিত্যপণ্যের বাজার ছিল অস্থিতিশীল। সবজি ব্যতীত প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। পেঁয়াজের ঝাঁজ ওঠে প্রায় ৩শ’ টাকায়। এ নিয়ে দেশে হৈ চৈ শুরু হলে চুপিসারে বেড়ে যায় মরিচের দাম। প্রতিকেজি শুকনো মরিচ ৩০০, গুঁড়ো মরিচ ৩৭০-৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিলে চলতি মাসে পেঁয়াজ ও মরিচের দাম দু’টোই কমেছে। তবে, দাম যে এখনো চড়া তা ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বললে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

অনেকের মতে, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে নিত্যপণ্যের দাম আশানুরূপভাবে কমছে না। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে কিছুটা হলেও ন্যায্য মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন ভোক্তারা। এমন দাবি নগরীর মিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা ইয়াছিন আহমদ সুমনের। তিনি দোকান বা বাজার ভেদে পণ্যের দামে কমপক্ষে ৫ টাকা হেরফের থাকারও প্রমাণ তুলে ধরেন।

এদিকে, দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গৃহিণীরাও রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হয়েছেন। এমনকি কিছুদিন আগে নগরীতে মানববন্ধন করে বেশক’জন নারী পেঁয়াজ না কিনার ঘোষণা দেন। গৃহিনী সাদেকা জান্নাত চৌধুরী জানান, এতোদিন আমাদের ধারণা ছিল বেশি পেঁয়াজ ছাড়া সু-স্বাদু রান্না হয় না। কিন্তু এবার দাম বাড়ার পর থেকেই আগের তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম পেঁয়াজ দিয়ে রান্না করছি। তবে, স্বাদের বিষয়ে বাসার কেউ এখনো প্রশ্ন তুলেননি। আমার মনে হচ্ছে, পেঁয়াজ মানেই যে সু-স্বাদু রান্না এ ধারণা বা আসক্তি থেকে গৃহিণীরা ধীরে ধীরে বের হতে পারছেন।

অপরদিকে, গতকাল রোববার সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়- ভারতের এলসি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৭০-১৮০, তুর্কি ৯৫-১০০, মিশরীয় ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দর ৫-১০ টাকা ওঠা-নামা করে এখন স্থিতিশীল রয়েছে। আগামীতে পেঁয়াজের দাম বাড়বে, না কমবে এ বিষয়ে তাদের কোন ধারণা নেই বলেও জানান ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন। তবে বিক্রি আগের চেয়ে একটু বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

সবজি বাজারে কেজিপ্রতি দেশি টমেটো ৮০ টাকা, থাল বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, টাটকা বেগুন ৪০ ও পুরনো ২৫ টাকা, ফরাসের বিচি ১০০ টাকা, পাতাকপি ৩০-৩৫ টাকা ও ফুলকপি ৫০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, মুলা ২০-২৫ টাকা, কাঁচা পেপে ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, গাজর ৪০-৪৫ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, করলা ৪৫-৫৫ টাকা, শসা ৫০ টাকা, ক্ষিরা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রক্ষময়ী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেন জানান, গত সপ্তাহের চেয়ে সবজি কেজিপ্রতি কমেছে গড়ে ৫ টাকা। আগামীতে দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: সিলেটের ডাক

 

Developed by :