Monday, 3 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




বাজেট ব্যবসাবান্ধব হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ, ব্যবসায়ীদের সাথে কাস্টমসের সভা

সিলেট: জাতীয় সংসদে পেশকৃত বাজেটের উপর সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ের উদ্যোগে ব্যসায়ীদের সাথে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ৩ টায় সিলেট নগরীর কাস্টমস এর সম্মেলন কক্ষে বাজেটে পেশকৃত মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং আমদানি-রপ্তানী শুল্ক বিষয়ক আনীত সংশোধনী, সংযোজনী ও প্রতিস্থাপনকৃত বিধানাবলীর সুষ্ঠু পরিপালন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জানানো হয়, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরা খাতে মূল্য সংযোজন কর আগের ১০% থেকে কমিয়ে এবার ৫% করা হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন রডে আগে ৫০০ টাকা করের বিধান থাকলেও এবার তা কমিয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া কাপড় ও কাগজ জাতীয় পণ্যের পাইকারি বিক্রেতাদের জন্য এবার প্রথমবারের মতো ১.৫% ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে প্রতিমাসের নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল না করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। নতুন এ বাজেটে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর কমিশনার মোহাম্মদ আহসানুল হক এর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, আমদানি-রপ্তানীকারক সমিতি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় বক্তারা রেস্তোরা, পাইকারী ব্যবসায়ী, এম.এস প্রোডাক্ট (ব্যবসায়ী পর্যায়) খাতে মূল্য সংযোজন করের হার হ্রাসকরণ, দাখিলপত্র বিলম্বে জমাদানের জন্য জরিমানার পরিমাণ হ্রাসকরণসহ অন্যান্য বিধানাবলী ব্যবসাবান্ধব হওয়ায় অর্থমন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় বাজেটে আনীত প্রতিটি বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ রাশেদুল আলম। এতে বাজেদের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যবসায়ীরা আলোচনা করেন এবং তাদের অধিভূক্ত সমিতির সদস্যবৃন্দকে অবহিতকরণ ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তারা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে আশ্বাস প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কাস্টমস অব কমিশনার মোহাম্মদ আহসানুল হক বলেন, আমরা দেশ ও জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদান করলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ ছাড়াই বাজেট বাস্তবায়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট, ট্যাক্স দিতে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে ব্যবসায়ীরা কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হলে সরাসরি তাঁর সাথে যোগাযোগ করারও তিনি আহ্বান জানান।

বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, সিলেট কাস্টমসের উপ-কমিশনার মো. শায়েখ আরেফিন জাহেদী, সুনামগঞ্জ আবগারী ও ভ্যাট বিভাগের উপ-কমিশনার মাধব বিকাশ দেব রায়, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-কমিশনার মো. আল আমিন, মৌলভীবাজার আবগারী ও ভ্যাট বিভাগের এসি আল আমিন মাহমুদ আশরাফ ও হবিগঞ্জের এসি প্রণয় চাকমা, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ ও পরিচালক আলীমুল আহসান চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপিলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক মুয়াম্মির হোসেন চৌধুরী, সিলেট কয়লা আমদানী গ্রুপের ফাইনেন্স সেক্রেটারি জয়দেব চক্রবর্তী, সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক রাবেয়া আক্তার রিয়া প্রমুখ।

 

Developed by :