Sunday, 2 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




মেয়র প্রার্থী তফজ্জুলের ইশতেহার ঘোষণা, টিটু’র আজ

বিয়ানীবাজার পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে ইউএনও ।। এখনো উঠছে না আঞ্চলিকতার সুর!

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ১০ মেয়র ও ৫৮ কাউন্সিলর প্রার্থী নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পৌরবাসীকে বেশ মাতিয়ে তুলেছেন। ঘরে ঘরে বিতরণ করছেন লিফলেট, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। আকর্ষণ বাড়াতে প্রবীণ নারী-পুরুষের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছেন পোস্ট। প্রার্থীদের এমন আচরণ খানিকটা হলেও ‘নির্বাচনী ট্রেডিশনে’ পরিণত হয়েছে। নির্বাচনে কিছুটা হলেও কালো টাকা, আঞ্চলিকতা, প্রভাব বিস্তারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে, এ পর্যন্ত কোন ধরণের নির্বাচনী সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

আগামী ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আট দিন আগেই পৌরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশিক নূর। মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার দীর্ঘ ১২ দিন পর গতকাল ইউএনও’র কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর। এ উপলক্ষে সোমবার (০৬ জুন) বেলা ৩ টায় পৌরসভা হলরুমে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও পৌর পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, পৌর নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র শপথগ্রহণ শেষে তাঁর হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন পৌরপ্রশাসক আশিক নূর।

গতকাল সোমবার সবার আগে ১৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও সাবেক পৌর প্রশাসক মো. তফজ্জুল হোসেন। তাঁর এ ইশতেহারে শহরের প্রবেশ পথে সিসিটিভি ও তিনটি পয়েন্টে ওয়াইফাই জোন, বিনোদন পার্ক স্থাপন, সুপেয় পানি সরবরাহ গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি ইশতেহারে পৌরশহরে মাছ ও সবজি বাজার একত্রিত করার ঘোষণা রয়েছে।

একইভাবে, আজ মঙ্গলবার বেলা দু’টায় পৌরশহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। এতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।

অপরদিকে, উঠান বৈঠক, সভা, গণসংযোগসহ প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন অপর ৯ মেয়র প্রার্থী। প্রতিদিন তাঁরা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মী, সমর্থক নিয়ে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। এবারের নির্বাচনে কঠিন সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছেন প্রার্থীরা। পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ১০টি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে একমাত্র ৯নং ওয়ার্ডে কোন মেয়র প্রার্থী নেই। ২ ও ৮নং ওয়ার্ডে দু’জন করে এবং অপর ৬ ওয়ার্ডে একজন করে মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। প্রত্যেক অঞ্চলে একাধিক প্রার্থী থাকায় কেউই শতভাগ আঞ্চলিকতার সুর তুলতে পারছেন না। আবার, প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী থাকায় প্রথমদিকে দলীয় প্রার্থীরাও আশানুরূপ সুবিধা করতে পারেননি। তবে, সময়ের তালে তালে কিছুটা হলেও নৌকার পালে হাওয়া লাগার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াত দলগতভাবে দর্শকের ভূমিকায় থাকায় ভোটের হিসেব মেলানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্পষ্ট না হলেও তারা আকার-ইঙ্গিতে কাউকে সমর্থন জানালে ভোটের পুরো চিত্র পাল্টে যেতে পারে। আঞ্চলিকতা না হওয়ায় মূলতঃ দলীয় এ বিষয়টি মাথায় রেখে মেয়র প্রার্থীরা সামনে অগ্রসর হচ্ছেন।

বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মো. আব্দুস শুকুর (নৌকা), আওয়ামী লীগের ‘প্রতিবাদী’ বিদ্রোহী প্রার্থী জিএস ফারুকুল হক ও আব্দুল কুদ্দুছ টিটু (হেলমেট), সাবেক পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন (জগ), স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদ (হ্যাঙ্গার), মো. আব্দুস সবুর (মোবাইল) ও আহবাব হোসেন সাজু (কম্পিউটার), জাতীয় পার্টির সুনাম উদ্দিন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির এডভোকেট আবুল কাশেম (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অজি উদ্দিন (নারিকেল গাছ)। আগামী দু’একদিনের মধ্যে বেশিরভাগ মেয়র প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

Developed by :