Thursday, 29 September, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




আ’লীগের এক বিদ্রোহীসহ ২৫ জনের মনোনয়ন জমা, জিএস ফারুকুল হকের সভা

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহীসহ দুই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর পদে ২৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সহকারি রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ কামাল হোসেন এর কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এরপর সন্ধ্যায় সৈয়দ কামাল হোসেন বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম’কে জানান, সোমবার স্বতন্ত্র দু’মেয়র প্রার্থীসহ মনোনয়ন দাখিল করেছেন ২৫ জন। তিনি আরো জানান, এ নির্বাচনের জন্য মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট ৬৭ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি ও স্বতন্ত্র মিলে মেয়র প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন।

আজ মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাজি আব্দুল কুদ্দুছ টিটু। তাঁর বাড়ি পৌর এলাকার শ্রীধরা গ্রামে। তিনি দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। মনোনয়ন জমা দেয়া অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন, ফতেহপুর গ্রামের কৃতিসন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো. অজি উদ্দিন। এছাড়া, মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কাউন্সিলর পদে ১৯ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪ জন। অপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা শেষ দিনে আগামীকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত অপর বিদ্রোহী প্রার্থী বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ ’৯৪ এর জিএস ফারুকুল হক মঙ্গলবার বেলা দু’টায় কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিবেন। গতকাল রোরবার রাতে তাঁর কসবা গ্রামের বাড়িতে এক বিশাল নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় সাবেক ছাত্রনেতা ফারুকুল হক বলেন, ‘রাজনীতিতে ত্যাগের মূল্যায়ন নেই। এখানে লবিং যার, প্রতীক তার। আমি বিয়ানীবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করতে চেয়েছিলাম, দল সে সুযোগ দেয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠে ফয়সালা হবে বিয়ানীবাজার পৌরসভার জনগণ কাকে চায়।’ সাধারণ মানুষ নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আছে জানিয়ে ফারুকুল হক বলেন, ‘আমি নির্বাচনে আছি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।’

স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৎসময় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে গুরুতর আহত হন জিএস ফারুকুল হক। তিনি এতটাই আক্রান্ত ছিলেন, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা চলাকালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর বাঁচার আশা অনেকটা চেড়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহব অশেষ কৃপায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে আসেন। এজন্য বিয়ানীবাজারের আপামর জনতা তাঁকে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী ফারুক’ বলে অভিহিত করেন।

সূত্রমতে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলেন ৭ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন আব্দুস শুকুর। আরো দু’বিদ্রোহী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। এছাড়া, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাজি আব্দুল হাসিব মনিয়া, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ময়নুল হোসেন ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ পাবেল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ফ্রান্স প্রবাসী আলী হোসেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রমতে, মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন মোট ১১ জন। এরমধ্যে ফারুকুল হক, আব্দুল কুদ্দুছ টিটু ও অজি উদ্দিন ছাড়া রয়েছেন, বর্তমান মেয়র মো. আব্দুস শুকুর (আওয়ামী লীগ), সাবেক পৌর প্রশাসক মো. তফজ্জুল হোসেন (স্বতন্ত্র), মোহাম্মদ আবুল কাশেম (কমিউনিস্ট পার্টি), মো. সুনাম উদ্দিন (জাতীয় পার্টি), আব্দুস সবুর (স্বতন্ত্র), আবু নাসের পিন্টু (স্বতন্ত্র), প্রভাষক মো. আব্দুস সামাদ আজাদ (স্বতন্ত্র), আহবাব হোসেন সাজু (স্বতন্ত্র)।

এছাড়া, কাউন্সিলর পদে সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে শামিমা আক্তার, শেফা বেগম, মরিয়ম বেগম ও মুন্নি বেগম, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে মোছাম্মত রুবি বেগম, মালিকা বেগম ও মোছাম্মত সাজেদা আক্তার নেহার, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে শিল্পী বেগম। সাধারণ কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন, ১ নং ওয়ার্ডে এমাদ আহমদ, আলম হোসেন, মো. নজমুল হোসেন, মো. ফখরুল ইসলাম, মো. গুলজার আহমদ ও আফজাল হোসেন, ২নং ওয়ার্ডে হাজী আব্দুল কুদ্দুছ, মো. ওয়াহিদুর রহমান, মো. এমরান হোসেন, মো. ছয়ফুল আলম, বাছন উদ্দিন ও মো. আব্দুর রউফ, ৩নং ওয়ার্ডে মো. আকবর হোসেন, সাহাব উদ্দিন ও আহমদ এহছানুল কাদির, ৪নং ওয়ার্ডে মো. আকছার হোসেন, মো. ছাদিকুর রহমান, খায়রুল হাসান, খালেদ আহমদ, মো. আবুল কাশেম ও সাইবুল আলম, ৫নং ওয়ার্ডে সেলিম উদ্দিন ও মো. সাইখুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডে আবুল আহসান, মো. সরাজ উদ্দিন, মো. ছাব্বির আহমদ, মো. আব্দুল রউফ, মো. আব্দুল হামিদ, এহসানুল ইসলাম ও মো. রফিকুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, মো. আব্দুস ছামাদ, মো. লুৎফুর রহামন খান, মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত, মিছবাহ উদ্দিন ও সামছ উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডে আব্দুল কাইয়ুম, মোহাম্মদ এনাম হোসেন, মো. আব্দুর রহমান, কামাল হোসেন, কবির আহমদ, ৯নং ওয়ার্ডে মো. শহিদুল ইসলাম, মো. শামছুল ইসলাম, মো. আবু বকর, আব্দুর রহমান, ময়নুল ইসলাম, মো. সরওয়ার হোসেন ও শামীম আহমদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ জুন পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ তারিখ কাল মঙ্গলবার। এছাড়া আগামী ২৭ মে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্দারিত রয়েছে।

 

Developed by :