Monday, 3 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




তিলপাড়া ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র মেধাবৃত্তি প্রকল্পের উদ্বোধন

পৃথিবীর সবকিছু কালের বিবর্তে হারিয়ে গেলেও জ্ঞান অক্ষয় থাকে : অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম 

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. তারিকুল ইসলাম বলেছেন, পৃথিবীর সবকিছুই কালের বিবর্তে হারিয়ে যায়। একটাই থাকে, সেটা হচ্ছে জ্ঞান। আর সেই জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে তিলপাড়া ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট পৃষ্ঠপোষকতা করছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে তাদের এ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।

গতকাল শনিবার বেলা ১১ টায় দাসউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘তিলপাড়া ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র মেধাবৃত্তি প্রকল্পের উদ্বোধন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম আরো বলেন, জীবনে সফল হতে হলে ধৈর্য্য ও শৃঙখলা থাকতে হবে। আর যেকোন প্রতিযোগিতায় শিক্ষায় অগ্রসর যোগ্যতম ব্যক্তিরা টিকে থাকে।

তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনের শুরুতে বৃত্তি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এজন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের খাঁটি দেশপ্রেমিক হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের চিফ ট্রেজারার সাবেক কাউন্সিলর মামুন রশীদের সভাপতিত্বে আড়ম্বরপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক আব্দুল হামিদ মানিক, বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সহ সভাপতি শিক্ষাবিদ মজির উদ্দিন আনসার, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ মানিক আরো বলেন, পুরুষ ও নারী শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ হলে হয়ত একজন, আর নারী হলে পুরো পরিবার শিক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য বলা হয়েছে, আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি শিক্ষিত জাতি উপহার দিব। তিনি বিশ্বাস রেখে বলেন, প্রবাসীরা শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগ করায় তিলপাড়া ইউনিয়ন শিক্ষা-দীক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে পুরো উপজেলার মধ্যে নতুন রেকর্ড করবে। তিনি সিলেটের পুরো শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে এ ট্রাস্টের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক আব্দুল হামিদ মানিক বলেছেন, কৃতি শিক্ষার্থীরা কোনো একক প্রতিষ্ঠান কিংবা অঞ্চলের নয়, তারা পুরো দেশের সম্পদ। কোন অঞ্চলে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বাড়াতে হলে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের প্রয়োজন। আজকের মেধাবৃত্তি প্রমাণ করে এ অঞ্চলে প্রবাসীরা সেক্ষেত্র তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, সন্তানকে প্রকৃত মানুষ করুন, নতুবা সারাজীবন সে কাঁদবে এবং আপনাকেও কাঁদাবে। তিনি বলেন, প্রবাসীরা যা উপার্জন করেন তা নাড়ীর টানে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগান। এজন্য আমরা সত্যিই আনন্দিত।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দৈনিক সিলেটের ডাক এর নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হামিদ মানিক আরো বলেন, মেধাবৃত্তি একবার পেলে হবে না, এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তুমাদের নিয়ে মানুষ হাসি ঠাট্টা করবে। এ কারণে শিক্ষাজীবন অত্যন্ত সতর্কতা ও সফলতার সাথে শেষ করতে হবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার সুশিক্ষিত সন্তান হবে শ্রেষ্ঠ সম্পদ, নতুবা বোঝা হবে। বোঝা হলে একদিন হয়ত সে কোটিপতি হবে, থাকবে বিশাল দালানে। আর আপনি হয়ত থাকবেন বৃদ্ধাশ্রমে। এ বিষয়টি উপলব্ধি করে আমাদেরকে অগ্রসর হওয়া উচিত।

সাপ্তাহিক বিয়ানীবাজার বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ছাদেক আহমদ আজাদ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. মিছবা উদ্দিন, তিলপাড়া ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান, অন্যতম সদস্য ছাদ উদ্দিন হেলাল, আব্দুল মুকিত, ফয়জুর রহমান, লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটসের লেবার ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ এর চেয়ার এবং বাংলাদেশ সেন্টারের ট্রাস্টি আশিক রহমান, তিলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য ফায়দুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনা মিয়া, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য হোসেন আহমদ, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য খায়রুল ইসলাম, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য লিলি বেগম, আজিমা বেগম ও রাছনা বেগম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তিলপাড়া ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার এন্ড এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে’র সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলতাফ হোসেন, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর কৃতি শিক্ষার্থী ঐশী রাণী দাস।

সভাপতির বক্তব্যে মামুন রশীদ বলেন, আমরা প্রবাসী হলেও অন্তরে জন্মমাটির টান রয়েছে। এজন্য দেশের কল্যাণে আমরা কাজ করতে চাই। সিলেটের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী আব্দুল হামিদ মানিকসহ বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় প্রবাসীরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।

ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ বলেন, আমরা মেধাবৃত্তি প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার প্রসারে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। আজকের মতো ইউনিয়নবাসী সর্বদা সহযোগিতা করলে অদূর ভবিষ্যতে এ ট্রাস্ট এলাকার উন্নয়নে মহীরূহ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থী ও উপস্থিত সকলের কল্যাণ কামনা করেন।

এদিকে, সংবর্ধনা উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী আব্দুর রব সদাই, দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য এখলাছ উদ্দিন, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. শরিফ উদ্দিন, সাংবাদিক সাদিক হোসেন এপলু, এডভোকেট আজিম উদ্দিন, সিলেট আইনজীবী সমিতির সহ সমাজ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট হোসাইনুর রহমান লায়েছ, এডভোকেট মুহিদুর রহমান সাগর, বিবিরাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, আছিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক আফিয়া বেগম ও প্রতিমা রাণী দাস, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম।

পরে প্রধান অতিথি আব্দুল হামিদ মানিকসহ অতিথিবৃন্দের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক ও মেধাবৃত্তি গ্রহণ করেন তিলপাড়া ইউনিয়নের আছিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয় ও বিবিরাই নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দাসউরা সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল বাছিত।

 

Developed by :