Monday, 3 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




ইউপি নির্বাচন: জয়ী বিদ্রোহীদের যাচাই করবে আওয়ামী লীগ

ইনসাইডার: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে টালমাটাল অবস্থা কিছুতেই কমছে না। একের পর এক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। এর ফলে তৃণমূলের আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্রোহ দমনের জন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যারাই নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে, ভবিষ্যতে কোনদিন তারা নৌকা প্রতীক পাবেনা। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ সরে এসেছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে সমস্ত ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন তাদের যাচাই বাছাই করা হবে। তারা আসলে কতটা ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দলের জন্য তারা কি ভূমিকা রেখেছে এবং কি কারণে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হলো ইত্যাদি পর্যালোচনা করার পরই তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী হয়েছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই বহিষ্কারের পিছনে সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিডরা মন্ত্রী, এমপি এবং প্রভাবশালীদের মদদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এবং এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আওয়ামী লীগ তার স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত কমিটির যে মনোনয়ন দিয়েছিল সেই মনোনয়ন যথাযথ সঠিক হয়েছিল, যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কাজেই ওই জায়গায় আওয়ামী লীগ কোন ছাড় দিচ্ছে না। এরকমভাবে বহু বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি যারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে যে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন তাদের ব্যাপারে নিবিড় ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে একাধিক কারণে।

প্রথমত, বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার ফলে তারা যদি দল থেকে বহিষ্কৃত হয় তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দ্বিতীয়ত, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিদ্রোহী হওয়ার পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছিল। যেমন স্থানীয় পর্যায় থেকে যে নাম পাঠানো হয়েছে সেই নামগুলো ভুল ছিল এবং এমপি-মন্ত্রীরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদেরকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে  এবং সঠিক তথ্য কেন্দ্রের কাছে দেয়নি। যার ফলে আওয়ামী লীগে যারা সত্যিকারের ত্যাগী, পরীক্ষিত তারা এটি মেনে নিতে পারেনি। এবং মেনে না নেয়ার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে যে, মূল আওয়ামী লীগই বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজস্ব বলয়ের মাধ্যমে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছে। এ  রকম বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন তাদের সম্পর্কে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট তথ্য  সংগ্রহ করেছে।

১. যিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছে তার এলাকায় ভূমিকা কি। তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা কিনা । কত দিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন।

২. ঐ বিদ্রোহী প্রার্থী কোন প্রেক্ষিতে এবং বাস্তবতায় বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন। এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে কি রকম ভাবে প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

৩. বিদ্রোহী প্রার্থী কেনো বিজয়ী হলেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কেন পরাজিত হলেন সে ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধান।

৪।। বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ এবং মন্ত্রী, এমপিদের সম্পর্ক কি এবং মন্ত্রী, এমপিদের ভূমিকা কতোটুকু ছিল

৫. বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া কি হয়েছে। জনগণ কেন বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দিল সে ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধান।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো  বলছে এই সমস্ত তথ্য পাওয়ার পর যদি দেখা যায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার যৌক্তিক কারণ ছিল তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না ও হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, প্রকাশ্যে এ ধরণের ঘোষণা দিলে আরও বিদ্রোহ  উৎসাহিত হবে , ফলে নির্বাচনের যে পুরো পরিকাঠামো সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আপাতত  বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নীরবতা পালন  করছে। যাচাই বাছাইয়ের পরই যে সমস্ত ক্ষেত্রে দলের গুরুত্বরও শৃঙ্খলা ভঙ্গ প্রমাণিত হবে সেক্ষেত্রে শুধু তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রদান করা হবে।

 

Developed by :