Friday, 15 October, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




বিয়ানীবাজারে ইউপি নির্বাচনে নবীন-প্রবীণ মিলে নৌকা প্রত্যাশী ৩৫ জন

নাহিদুর রহমান: বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়নে পুরোদমে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় চতুর্থ অথবা পঞ্চম ধাপে অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথম কিংবা মাঝামাঝি সময়ে ইউপি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার দলীয় প্রতীকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এজন্য আওয়ামী লীগের নৌকার কান্ডারি হতে দলের প্রবীণ নেতাদের সাথে নবীনদেরও ভোটের মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে। এরমধ্যে নবীন দু’একজন নৌকা পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

গতবারের ন্যায় এবারও তৃণমূলের ভোটের ওপর দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। তবে, নৌকার কান্ডারি হওয়া নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের ওপর। এবার বিগত নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন পাচ্ছেন না, এটা প্রায় নিশ্চিত।

সূত্রমতে, বিগত ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে চারখাই, দুবাগ, শেওলা ও মাথিউরা ইউনিয়ন এই ৪ টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হয়। আর মাত্র একটিতে লাউতা ইউনিয়নে আওয়াম লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করে। অপর ৫ ইউনিয়নের মধ্যে ৩ টিতে আলীনগর, কুড়ারবাজার ও মোল্লাপুর ইউনিয়নে ধানের শীষ, তিলপাড়ায় বিএনপির বিদ্রোহী ও মুড়িয়া ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়।

বিগত নির্বাচনে হাতছাড়া হওয়া ইউনিয়নে এবার আওয়ামী লীগ শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা করছে। এলক্ষ্যে গতবারের প্রার্থীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা বিকল্প প্রার্থীও খোঁজছেন।

এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি গতবারের চেয়ে তুলনামূলক কম হবে। সব মিলিয়ে ৩০-৪০ জন শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ভোটে অংশ নিতে পারেন। এরমধ্যে নৌকার ১০ প্রার্থী বের হয়ে আসবেন।

নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, এবার জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী অপেক্ষাকৃত কম হবে। পাশাপাশি ৭-৮ ইউনিয়নে অনায়াসে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা মোটেও কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল অভিন্ন কণ্ঠে বলেন, আমরা ঐকবদ্ধ। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। তিনি যাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করবেন তাকে নিয়েই আমরা ভোটযুদ্ধে মাঠে নামব। এবার আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করবে। এলক্ষ্যে আমরা দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

বিয়ানীবাজারে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন প্রায় ৪০ নেতাকর্মী। এরমধ্যে প্রবাসীরাও রয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলীনগর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন চান সিলেট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আহবাবুর রহমান খান শিশু ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জায়গীরদার।

চারখাই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।

দুবাগ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ নাজিম উদ্দিন (গতবারের বিদ্রোহী), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পলাশ আফজাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাওফিক মাহমুদ চৌধুরী।

শেওলা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ শামছ উদ্দিন খান, বর্তমান চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ হোসেন খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফয়ছল আহমদ।

কুড়ারবাজার ইউনিয়নে সাবেক ফুটবলার তুতিউর রহমান তোতা (গতবারের বিদ্রোহী), আওয়ামী লীগ নেতা ও সাংবাদিক রেজাউল হক।

মাথিউরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শহীদ পরিবারের সন্তান আলমগীর হোসেন রুনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আমান উদ্দিন।

তিলপাড়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসলাম উদ্দিন (গতবারের বিদ্রোহী), উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য, সাপ্তাহিক বিয়ানীবাজার বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড দাসউরা বাজার আউটলেট এর পরিচালক ছাদেক আহমদ আজাদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিবেকানন্দ দাস বিবেক, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন ছায়াদ ও জামিল হোসেন।

মোল্লাপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাদির (গতবারের বিদ্রোহী), যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

মুড়িয়া ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য কাওছার আহমদ, বিয়ানীবাজার পৌর শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ তারেক, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাব্বির উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা শফিউর রহমান।

লাউতা ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান এমএ জলিল, বর্তমান চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন (গতবারের বিদ্রোহী), উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য লুৎফুর রহমান ফয়সল, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব ভট্টাচার্য, উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা সাংবাদিক ইকবাল হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা পি এম পাল।

এছাড়া অনেক যোগ্য প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ে দলীয় প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার আভাস পাওয়া গেছে।

 

Developed by :