Friday, 15 October, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




ইংল্যান্ডে একই দিনে দুই সিলেটি খুন

বার্তা ডেস্ক: ইংল্যান্ডে একই দিনে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুই সিলেটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ দুই ঘটনায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে প্রচুর পরিমাণে সিলেটির বসবাস হওয়ায় তারা আছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে।

নিহত দুজন হলেন- সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার ফতেহপুর গ্রামের মৃত সাদই মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার দাওরাই গ্রামের আব্দুল রউফের মেয়ে সাবিনা নেছার (২৮)।

সেলিম স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি মালিকাধীন একটি রেস্টুরেন্টের শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, সাবিনা ক্যাপিটাল সিটি লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন।

জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর (গত শুক্রবার) স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এক সহকর্মীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে খুন হন সেলিম মিয়া। তিনি ২০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে ছিলেন। আইনী লড়াই শেষে মাত্র কয়েকদিন আগে পেয়েছিলেন দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ। দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন শিগগিরই, কিন্তু তা আর হয়নি।

সেলিম স্কটল্যান্ডের ইনভারকেটিং হাই স্ট্রিটের বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘গুলসান তান্দুরি রেস্টুরেন্টে’ শেফের কাজ করতেন। ওই রেস্টুরেন্টের মালিক সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকার।

রেস্টুরেন্ট সূত্র জানিয়েছে, রেস্টুরেন্টে স্টাফ সংকট হলে সেলিম প্রায়ই স্টাফ সংগ্রহ করে আনতেন। এরকই এক স্টাফকে কাজে এনেছিলেন সেলিম। কিন্তু সেই স্টাফের হাতেই খুন হলেন তিনি।

সেলিম ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে এডিনবারার রয়েল ইনফারমারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘাতক সহকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, গত শুক্রবার রাতে বাসার বাইরে ছিলেন সাবিনা নেছার। এরপর শনিবার বিকালে সাউথ ইস্ট লন্ডনের কিডব্রুক এলাকার ক্যাটর পার্কে একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তবে স্বজনরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন গত সোমবার।

সাবিনা লুইশাম রাশিগ্রিন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। সাবিনার পরিবার বেডফোর্ডশায়ারের স্যান্ডি এলাকায় বসবাস করেন। গ্রিন উইচের একটি ফ্ল্যাটে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকতেন সাবিনা।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সাবিনার হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘাতক সন্দেহে ৪১ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

সাবিনার বাবা আব্দুল রউফ জানিয়েছেন, তার মেয়েকে কেন, কারা হত্যা করলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তিনি জানান, তার চার মেয়ের মধ্যে সাবিনা লুটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এরপর লুইশাম রাশিগ্রিন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি।

 




 

Developed by :