Saturday, 18 September, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




মিশিগানের হ্যামট্রামিক সিটি নির্বাচনে লড়ছেন চার বাংলাদেশি

তোফায়েল রেজা সোহেল, মিশিগান (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের হ্যামট্রামিক সিটির প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। মেয়র পদে লড়ছেন এনএএসিপি হ্যামট্রামিক ব্রাঞ্চের প্রেসিডেন্ট কামাল রহমান। তিনি ২০১৭ সালের নির্বাচনে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এদিকে, কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ডেমোক্রেটিক ডিস্ট্রিক্ট-১৪ চেয়ার মুহিত মাহমুদ, ডেমোক্রেটিক ডিস্ট্রিক্ট-১৪ সাবেক প্রেসিডেন্ট আরমানি আছাদ ও মিশিগান স্টেট আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি আবু আহমেদ মুছা।

জানা গেছে, আগামী ৩ আগস্ট হ্যামট্রামিক সিটির প্রাইমারি নির্বাচনের সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই শহরটি একশ বছরের পুরনো। দুই বর্গ মাইল আয়তনের শহরটিতে সবচেয়ে বেশি আরব ও বাংলাদেশিরা বেশ প্রভাবশালী। বর্তমানে সেখানে দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলম্যান রয়েছেন। মেয়রসহ অন্য কাউন্সিলররা ইয়েমেনি ও পোলিশ বংশোদ্ভূত। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধ্যুষিত শহর হিসেবে ব্যাপক পরিচিত রয়েছে হ্যামট্রামিক।

এই সিটিতে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একমাত্র মেয়র প্রার্থী কামাল রহমান। তিনি ১৯৮৬ সালে কিশোর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। হ্যামট্রামিক হাইস্কুল থেকে স্কুল গ্রাজুয়েশন এবং ওয়েনকাউন্টি কমিউনিটি কলেজ (ডব্লিউসিসি) থেকে কলেজ গ্রাজুয়েশন করেন। এরপর ওয়ালস কলেজ থেকে ফাইন্যান্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি সিটি অব ডেট্রয়েট গভর্নমেন্ট অফিসে ফাইন্যান্স ম্যানেজার পদে কর্মরত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে জনকল্যাণে কাজ করছেন।

এছাড়াও কামাল রহমান হ্যামট্রামিক ব্রাঞ্চের প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্রন্টিয়ার ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি বোর্ড অব প্রেসিডেন্ট। মিশিগান কোয়ালিশন অব হিউম্যান রাইটস বোর্ডের মেম্বার দীর্ঘ ৬ বছর ধরে। এর আগে তিনি ওয়েনকাউন্টি কমিউনিটি কলেজ বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাল্ট (SAALT) অর্গানাইজেশন তাকে ‘চেইঞ্জ মেকার’ অ্যাওয়ার্ড দেয়। এছাড়া বাংলাদেশি কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন ব্যাপাকের ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদেও রয়েছেন তিনি।

মেয়র প্রার্থী কামাল রহমান বলেন, ‘২০১৭ সালে একই পদে নির্বাচন করে মাত্র ৫৩ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাই। ওই নির্বাচনে আমাদের কমিউনিটি থেকে মেয়র পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার আমিই একমাত্র প্রার্থী। কমিউনিটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমার পক্ষে রায় দেবে এটা এখন সময়ের দাবি। সরাসরি গিয়ে সমস্যা নিরূপণ, মানুষের দাবি শুনেছি এবং সেই আলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করছি।’

হ্যামট্রামিক সিটির জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান তিনি।

কাউন্সিলর প্রার্থী মুহিত মাহমুদ পেশায় একজন সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিয়াল। বাংলাদেশে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ডিস্ট্রিক্ট-১৪ ভাইস চেয়ার এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্রসাস (বিএডিসি) প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। লেবার ইউনিয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে। এছাড়া গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন।

তিনি জানান, নিজেকে জনসেবা ও কমিউনিটি সার্ভিসে যুক্ত রেখেছেন। এটা তাদের পারিবারিক চর্চা। তার বাবাও গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। কমিউনিটির লোকজনের উৎসাহ ও প্রেরণায় প্রার্থিতা করছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি।

বিজয়ী হলে হেমট্রামিক সিটির সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান মুহিত।

কাউন্সিলর প্রার্থী আরমানি আছাদ পেশায় ব্যবসায়ী। ১৯৯২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। এরপর ব্যাচেলর ফাইন অ্যান্ড আর্টসে গ্রাজুয়েশন করেন। ব্যবসার পাশাপাশি ক্রিমিনাল জাস্টিসের ওপর পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ী সংগঠন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি পদে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট-১৪ সাবেক প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশ-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ক্রসাস (বিএডিসি) সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া গোলাপগঞ্জ হেল্পিং হ্যান্ডস ইউএসএ সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। নর্থ অ্যাসোসিয়েশন সোশ্যাল ট্রাস্টের (নাস্ট) ফাউন্ডার হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘কমিউনিটির ঐক্যটাই আমার মূল লক্ষ্য। এ নিয়ে কাজ করব। এছাড়া করোনাকালীন লকডাউনের সময় কমিউনিটির সমস্যাপীড়িত মানুষের ঘরে ঘরে নানান রকম সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। কমিউনিটির লোকজনের জন্য সহজ পন্থায় ভ্যাকসিন গ্রহণের ব্যবস্থা করেছি। মানবতা-ন্যায়ের পক্ষে এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন কাজ করে যাব।’

এদিকে একাধিকবার চেষ্টা করেও আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী আবু আহমেদ মুছার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ঘনিষ্ঠজনরা জানান, আবু আহমেদ মুছা ২০১৪ সালের হ্যামট্রামিক সিটির নির্বাচনে কাউন্সিল পদে জিতেছিলেন। এরপর ২০১৭ সালের নির্বাচনে হেরে যান। তিনি আওয়ামী লীগ মিশিগান স্টেট শাখার সেক্রেটারি পদে রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনেও যুক্ত তিনি।

 




 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :