Wednesday, 1 December, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




আনভীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হতে পারে

বার্তা ডেস্ক: ভুল বুঝিয়ে, প্রতারণা করে কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে অভিযুক্ত পুরুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের আওতায় এটির সুযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি হেজাফতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে যেমনটা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা। একইভাবে গুলশানের ফ্ল্যাটে মোসারাত জাহান মুনিয়ার অপমৃত্যু ঘটনায় তার প্রেমিক আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ মামলা হতে পারে। দুটো ঘটনাই প্রেমের জালে ফেলে পরকীয়ার কাহিনী বলে মনে করেন আইনজীবীরা।

তাদের মন্তব্য, বিয়ের ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে দুই বছরের অধিক সময় স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করেছেন বসুন্ধরা এমডি। তাই ভিকটিমের পরিবার চাইলে আনভীরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করতে পারেন। যদিও কিছুটা দেরি হয়ে গেছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে পুলিশি তদন্তের ওপর। এমনটা চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন মুনিয়ার বোন ও গুলশান থানার মামলার বাদী নুসরাত জাহান তানিয়াও।

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এত দিনেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখছি না। আসামি আনভীরকে গ্রেফতার তো দূরের কথা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। এটা কেমন ধরনের আইন। টাকা ও ক্ষমতার জোরে এবারো কি বসুন্ধরা গ্রুপ পার পেয়ে যাবে? এ প্রশ্ন শুধু আমার নয়, দেশের সচেতন জনগোষ্ঠিীর। ছোট বোন মুনিয়া হত্যার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বসুন্ধরা এমডি আনভীরের বিচার ভিক্ষা চেয়েছেন নুসরাত। পাশাপাশি তার নিরাপত্তাহীনতার কথাও জানান।

নুসরাত বলেন, আমার বোন যদি খারাপও হয়, তার পরও তাকে মেরে ফেলার অধিকার কারো নেই। মূলত প্রেক্ষাপট সৃষ্টি ও বিয়ে না করে দূরে সরে যেতে মুনিয়াকে হত্যার আগে ৫০ লাখ টাকা চুরির অপবাদ দেন আনভীর।

এদিকে মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর পর গুলশানের সেই ফ্ল্যাট থেকে সংগৃহীত আলামত ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যেই এখনো সীমাবদ্ধ পুলিশি তদন্ত। গত সপ্তাহে কয়েকজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরবর্তীতে আর কোনো নতুন তথ্য নেই বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তাদের ভাষ্য, ময়নাতদন্তসহ ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। সন্দেহভাজন আসামিদের গতিবিধি নজরে রাখছেন। ওপরের সিগন্যাল পেলে যেকোনো সময় প্রধান আসামি বসুন্ধরা এমডি আনভীরকে গ্রেফতার কিংবা জেরা করা হতে পারে।

সূত্র মতে, ইতোমধ্যে মুনিয়ার ভাইকে নিজেদের অনুকূল এনে তাকে ব্যবহার করে উল্টো মামলা দায়েরের চেষ্টা করানো হয়েছে। সেই বড় ভাই সবুজ গত কয়েকদিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ। তবে আনভীরকে রক্ষা করতে হলে মূলত মুনিয়ার বড় বোন নুসরাতের মুখ বন্ধ করতে হবে। সে লক্ষ্যে নানা অপকৌশল নেয়া হয়েছে। চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি গোপনে আঁতাত করার পথেও হাঁটছে বসুন্ধরা। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সমঝোতার পথে হাঁটছে বসুন্ধরা গ্রপ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে জব্দ হওয়া দুটি স্মার্টফোনে বসুন্ধরা এমডি আনভীরের সঙ্গে মুনিয়ার অসংখ্য ছবি রয়েছে। বেশ কয়েকটি ছবিতে মুনিয়া এবং আনভীরকে হাতে হাত রেখে এবং কিছু ছবিতে কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে। মুনিয়ার ফোনে পাওয়া গেছে বাংলালিংক অপারেটরের একটি নম্বরের অসংখ্য কল রেকর্ড। ওই নম্বরটি এমডি আনভীরের বলে নিশ্চিত করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তা। ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিলের কথোপকথনের সবগুলোতেই তাদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ চলছিল।

একই সূত্র মতে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ছাড়াও মুনিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করিয়ে তার সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের অবৈধ সম্পর্কের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। ঠিক কী কারণে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল এবং ভিকটিমকে মোবাইলে ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে যে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল তাও তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া মুনিয়ার ব্যবহৃত ছয়টি ডায়েরিতে আনভীরকে উদ্দেশ্য করে লেখা অভিমান ও হতাশার কথাগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। স্পর্শকাতর মামলাটির নিবিড় তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজন আসামিদের নজরদারিতে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনার পর গুলশানের ওই ভবনের কয়েকজনকে জেরা করা হয়েছে। অকাট্য প্রমাণ হাতে নিয়ে আসামিকে জেরা করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদনের ফলাফলের ভিত্তিতে মামলা যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

‘আত্মহত্যার’ ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা এমডি আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান মামলা করেন মুনিয়ার বোন নুসরাত। এতে তিনি অভিযোগ করেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০১৯ সালে আনভীর মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনভীরের পরিবার মুনিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তখন আমার বোনকে (মুনিয়াকে) আনভীরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন তার মা। নুসরাত পুলিশকে জানিয়েছে, এ ঘটনার পর আনভীর মুনিয়াকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন ও পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

গত ১ মার্চ গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার বি/৩ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন আনভীর। ১ মার্চ থেকে মুনিয়া সেই ফ্ল্যাটেই ছিলেন ও আনভীর মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতেন। ১ লাখ ১১ হাজার টাকার ওই অভিজাত ফ্ল্যাটের ভাড়া দিতেন আনভীর।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্র: মানবকণ্ঠ

 




 

Developed by :