Sunday, 23 January, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




মুনিয়ার ডায়েরিতে কী আছে?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বার্তা ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের করা হয়েছে গতকাল। সোমবার রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করা হয় দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। মৃত কলেজছাত্রীর বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। 

এজাহারে তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, মুনিয়ার লেখা আনভীরকে নিয়ে প্রেম কাহিনীর ডায়েরি পুলিশ হেফাজতে নেয়। বলা হয়েছে, মোসারাত জাহান (২১) একটি কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামির সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন।

২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং মোসারাতকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

বাদী নুসরাত এজাহারে বলেন, সবশেষ গত ১ মার্চ আসামি মোসারাতকে প্ররোচিত করেন। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখে। আসামি বাসায় আসলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।

এজাহারে বলা হয়, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবে। ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝে মাঝে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।

এতে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। মোসারাত তাকে বলেছেন, আনভীর তাকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি আসামির স্ত্রী দেখেছেন। এখন তিনি তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাতকে) মেরে ফেলবেন।

এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাট মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মরদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ।

 




 

সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :