Thursday, 25 February, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




এমপি নাহিদের বিরুদ্ধে লন্ডনে অপপ্রচার, প্রতিবাদী হচ্ছে আওয়ামী লীগ

যা বলেছি সত্য : আফসার খান সাদেক

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির অপচেষ্টা : উপজেলা আ’লীগ

ছাদেক আহমদ আজাদ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র বিরুদ্ধে গত কিছুদিন থেকে লন্ডনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বিয়ানীবাজারের সন্তান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আফসার খান সাদেক। শেওলা সেতুর টোল আদায়ে এমপি’র আত্মীয় জড়িত রয়েছেন এমন মিথ্যা ও আজগুবি তথ্য দিয়ে তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। এমনকি সাদেক খানের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলের উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী।

ইতিমধ্যে তারা অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করেন। এরপরও অপপ্রচার বন্ধ না করেল আফসার খান সাদেকের কুশপুত্তলিকা দাহসহ রাজপথে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যুক্ত বিবৃতিতে আফসার খান সাদেক’র মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

লিখিত বিবৃতিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এ দু’নেতা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একজন সজ্জন, নির্লোভ এবং সৎ রাজনীতির পথিকৃৎ। অথচ আফসার খান সাদেক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে জনমনে তাঁর সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরীর অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। আফসার খান সাদেক বলেছেন, ‘নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র আত্মীয় অবৈধভাবে শেওলা সেতুতে টোল আদায় করছেন।’ এমন জঘন্য অপপ্রচারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী চরম ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত।

আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান ও দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করেন, প্রবাসী আফসার খান সাদেক শেওলা সেতুর টোল আদায় নিয়ে গণমানুষের নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি সম্পর্কে যে তথ্য প্রচার করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ টেন্ডারের মাধ্যমে শেওলা সেতুর টোল আদায়ে ইজারাদার নিয়োগ করে। মাথিউরা গ্রামের আব্দুন নুর এর পুত্র জিয়াউল হক সরকার মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে বর্তমানে টোল আদায় করছেন। তার সাথে নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র আত্মীয়তার কোন সম্পর্ক নেই।

আওয়ামী লীগের দু’নেতা আরো বলেছেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি কখনো তার আত্মীয়-স্বজনসহ কাউকেই বিশেষ সুবিধা প্রদান করেননি। অথচ আফসার খান উদ্দেশ্যমূলকভাবে জঘন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন এবং ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক এমপি নাহিদকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। এ ধরনের মিথ্যা, মনগড়া ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল দু’নেতা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

এ বিষয়ে শনিবার রাতে লন্ডন থেকে সেলফোনে আলাপকালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আফসার খান সাদেক বলেন, ‘শেওলা সেতুর টোল প্রসঙ্গে যা বলেছি তা একেবারে সত্য। নুরুল ইসলাম নাহিদের আত্মীয় সংশ্লিষ্টতার ডকুমেন্টও রয়েছে। তা ফেসবুকে দেয়া আছে। তিনি বলেন, সত্য কথায় কখনো আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় না। বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নেতাকর্মীর কর্তব্য।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল বলেন, ‘প্রিয় নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে দলের নেতাকর্মী চরম ক্ষুব্ধ। তারা আফসার খান সাদেক’কে সমুচিত জবাব দিতে কঠোর কর্মসূচির জন্য আমাদেরকে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা প্রথমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছি। এরপরও তা বন্ধ না হলে বিকল্প পথ খুঁজে নেবে আওয়ামী লীগ।

এ প্রসঙ্গে শনিবার রাতে বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. আব্দুস শুকুর বলেন, নুরুল ইসলাম নাহিদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার উন্নয়ন কর্মকান্ডকে কালিমালিপ্ত করতে আওয়ামী লীগের ভেতরে থাকা মস্তাকচক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এমপি নাহিদকে জড়িয়ে শেওলা সেতু প্রসঙ্গে সাদেক খানের বক্তব্য পুরোপুরি অসত্য। তা ক্লিন ইমেজের নেতা সাবেক মন্ত্রী নাহিদের চরিত্রহনের শামিল।

ষড়যন্ত্রকারিদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস শুকুর বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে দলকে কলুষিত করবেন না। নতুবা নেতাকর্মী সমুচিত জবাব দিতে বাধ্য হবে।

উল্লেখ্য, বিএনপি সরকারের আমলে বিয়ানীবাজারে কুশিয়ারা নদীর ওপর শেওলা সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যায়। ১৯৯৯ সালের ৩১ জুলাই শেওলা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে শেওলা সেতুর টোল আদায় করছে সরকার।

 




সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :