Thursday, 20 January, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |




প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের কষ্টের গল্প সিঙ্গাপুরের অনলাইনে ঘুরছে

২০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন আনোয়ার (বাঁয়ে)।

বার্তা ডেস্ক: ২০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন  বাংলাদেশি আনোয়ার হোসেন।  সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি এই প্রবাসীর সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির হৃদয় জয় করা একটি ঘটনা সেখানকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আনোয়ার নামের ওই বাংলাদেশিকে নিজের বাড়িতে কাজে ডেকে এনে তার কষ্টের কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সিঙ্গাপুরের মালিক।

গত বৃহস্পতিবার ফ্যাবিয়ান কে নামের ওই ব্যক্তি বাসার কাচের জানালা ঠিক করতে অনলাইনে শ্রমিক খুঁজতে গিয়ে ১০০ সিঙ্গাপুরি ডলারে আনোয়ারের সঙ্গে চুক্তি করেন।

আনোয়ার নিজের যন্ত্রপাতির বাক্স এবং একটি রোলার নিয়ে ফ্যাবিয়ানের বাসার সামনে হাজির হন। ফ্যাবিয়ান অবাক হয়ে শোনেন, বাংলাদেশি এই প্রবাসী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে গণপরিবহনে তার বাসায় এসেছেন। বাসাটি এমন জায়গায় যেখানে আসতে কিছুটা হাঁটতেও হয়!

আনোয়ার দরজার সামনে এসে বুঝতে পারেন, যে রোলার তিনি এনেছেন তা ভেতরে ঢুকবে না; অনেক বড়। দুঃখ প্রকাশ করে তিনি ফ্যাবিয়ানকে কথা দেন, দ্রুত উপযুক্ত রোলার নিয়ে হাজির হবেন।

ফ্যাবিয়ান ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘আমি প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করি। ডিনারের পরিকল্পনা ছিল, সেটি বাতিল করি। বসে বসে ভাবছিলাম, লোকটা কত কষ্টই-না করছেন।’

এরপর আনোয়ার ফিরে আসেন, তবে খালি হাতে! সারাদিন খুঁজেও উপযুক্ত সাইজের রোলার তিনি পাননি। ফ্যাবিয়ান সব শুনে ৫০ ডলার দিয়ে বলেন, আরও খুঁজতে থাকুন। পেলে কাল আবার আসবেন।

আনোয়ার শুক্রবার ঠিকই রোলার পেয়ে যান। সেটি দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটে জানালা ঠিক করে দেন।

কাজ করার সময় আনোয়ারের সঙ্গে কথা হয় ফ্যাবিয়ানের। তিনি জানতে পারেন, বাংলাদেশি এই শ্রমিকের দুই ছেলের পাশাপাশি ১৪ বছরের এক মেয়ে আছে দেশে। গাড়ি দুর্ঘটনায় মেয়েটির ডানপাশ অবশ।

‘আনোয়ার তার সমস্যার কথা আমাকে বলেছেন। শুনলাম একটি পাবের পারিশ্রমিক পাওনা আছে, তারা দিচ্ছে না।’

‘আমাদের বাংলাদেশি ভাইদের জন্য সিঙ্গাপুরে কাজ করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমি কখনোই তার জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে পারছি না। তাদের জন্য সম্মান ছাড়া আমার আর কিছুই নেই।’

আনোয়ার ফেরার আগে ফ্যাবিয়ান কফি তৈরি করে খাওয়ান। চুক্তির চেয়ে দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দেন।

ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া পোস্টে ফ্যাবিয়ান লিখেছেন, ‘দ্বিগুণ অর্থ পেয়ে তিনি প্রায় কেঁদেই ফেলেন। চোখ ফেটেছে আমারও।’

ফ্যাবিয়ান আনোয়ারের সঙ্গে একটি ছবি ফেইসবুকে শেয়ার করেন। সেটি ভাইরাল হওয়ার পর ডিলিট করে আনোয়ারের মুখ ঢেকে আরেকটি ছবি পোস্ট করেন। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পোস্টটি ৫ হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছে। আনোয়ারকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন নিজ দেশের মানুষকে।

বিদেশি ফ্যাবিয়ান শুধু আনোয়ারকে ধন্যবাদ দিয়েই থামেননি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সকল বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রতি, ‘ধন্যবাদ আনোয়ার। ধন্যবাদ আমাদের বাংলাদেশি ভাইদের আমাদের বাড়ি তৈরি করার জন্য, শহর দেখভালের জন্য।’

 




 

Developed by :