Tuesday, 2 March, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




আলীনগরে খরতি খালের ওপর দৃশ্যমান হলো ১০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: নাম তার খরতি খাল! কিন্তু বাস্তবে খরস্রোতা নদীর মতো। এ খালে স্রোত এতই বেশি, সরকারের দেওয়া কোটি টাকার সেতুও বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এতদ্বঞ্চলের মানুষ উন্নত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ কারণে বিয়ানীবাজারের ফুলমলিকসহ পার্শ্ববর্তী ৬ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের জন্য খরতি খাল ‘দুঃখ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অতঃপর বাধ্য হয়ে ফুলমলিক সড়কের খরতি খালের ওপর জনগণ স্বেচ্ছায় দৃশ্যমান করেছেন ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকো। প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সাঁকোটি গতকাল শুক্রবার হালকা যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে যান চলাচলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ছাত্রছাত্রী ও দুঃস্থ রোগী।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার সীমানাঘেঁষা আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ‘খরতি খাল’। চন্দগ্রাম-ফুলমলিক সড়কে এ খালের ওপর দীর্ঘদিন থেকে একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কারণ এ সড়ক দিয়েই জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে চন্দগ্রাম, দুধাইর পাতন, ফুলমলিক, গোবিন্দশ্রী, ফাড়িরবাজার ও ঘাগুয়া গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এখানে নতুন সেতু হলে এতদ্বঞ্চলের সাধারণ মানুষ সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারতেন। কিন্তু নানাবিধ সমস্যার কারণে দীর্ঘদিনেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজের আভাস পাওয়া গেছে।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, পরিষদের স্বল্প বাজেট দিয়ে এখানে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবগত করেছি।

তিনি বলেন, এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, এতদ্বঞ্চলের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খরতি খালের ওপর আমরা দু’টি সেতু নির্মাণ করেছি। কিন্তু খালে স্রোত বেশি এবং অন্যান্যা সমস্যার কারণে একটি সেতু প্রায় অকেজো হয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ফুলমলিক সড়কে এ খালের ওপর আরেকটি সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা আমার জানা রয়েছে।

সাবেক এ মন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন সময়ে আলীনগর ইউনিয়নে স্কুল, কলেজ, রাস্তা ও সেতুসহ সামগ্রীক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরেকটি সেতু নির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে আলীনগরের ফুলমলিক সড়কের খরতি খালের ওপর নির্মিত ‘বাঁশের সাঁকো’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এলাকার প্রবীণ মুরব্বি আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে ‘বাঁশের সাকো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব, প্রধান বক্তা ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হেলাল চৌধুরী, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল, আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান খান বলেন, এ সাঁকোর মাধ্যমে একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা সড়ক যোগাযোগের আওতায় এসেছে। এখানে সেতু নির্মাণ না হওয়া আমাদের ব্যর্থতা। তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখানে দ্রুত পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করব।

এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, আমরা সচক্ষে তাদের দুঃখ দেখে গেলাম। আগামী এক বছরের মধ্যে এখানে নতুন সেতু উপহার দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।

সূত্রমতে, ২০০৬ সালে চন্দগ্রাম-দুধাইর পাতন সড়ক হওয়ার পরে খরতি খালের ওপর ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে উপজেলা সদরের সাথে এ এলাকার মানুষের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়। কিন্তু ২০১২ সালে বন্যার পর সেতুটি দেবে গেলে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তৎসময়ে স্থানীয় লোকজন নির্মাণকাজের ত্রুটির জন্য সেতু দেবে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তবে, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘সেতুর পাশ থেকে বড় গর্ত করে মাটি তুলে নেওয়ায় বন্যার পানির তোড়ে সেতুটি দেবে গেছে।’ মূলতঃ এরপর থেকেই এতদ্বঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেশ পিছিয়ে পড়েন।

 

Developed by :