Saturday, 23 January, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে সমাহিত

বার্তা ডেস্ক: চির নিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। সুপ্রিম কোর্ট, ডিআরইউ, প্রেসক্লাব ও প্রাণের কর্মস্থল প্রথম আলোতে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে দাফন করা হয় রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

মঙ্গলবার ( ১২ জানুয়ারি) দুপুর দুইটার পর যখন মরদেহ কবরস্থানে নেওয়া হয়। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীসহ আরও অনেকে।

জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা শেষে মিজানুর রহমান খানের মরদেহ নেওয়া হয় তার কর্মস্থল প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে। মরদেহ পৌঁছালে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সহকর্মীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে, সকাল ১০টার পরপর দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মিজানুর রহমান খানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে মিজানুর রহমান খানের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান ও সাবেক নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকেরা জানাজায় অংশ নেন।

মিজানুর রহমান খানের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে। সেখানেও সাংবাদিক নেতারাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সাংবাদিকরা অংশ নেন। সহযোদ্ধাকে হারিয়ে শোকো মুহ্যমান তারা।

গতকাল সোমবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান খান মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

বিশিষ্ট এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ, সংগঠন ও দল। অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও শোক জানিয়েছেন। শোক বার্তায় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, আইন বিষয়ে লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় মিজানুর রহমান খান ছিলেন পথিকৃৎ। তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন একজন নীতিমান সাংবাদিক।

গত  ৪ ডিসেম্বর করোনা আক্রান্ত হন সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান। প্রথমে তাকে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১০ই ডিসেম্বর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মিজানুর রহমান খানের ছোট ভাই মসিউর রহমান খান সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মিজানুর রহমান খানের অক্সিজেনে ঘাটতি হচ্ছিল। ৯ জানুয়ারি তার অক্সিজেনের চাহিদা বাড়তে থাকে। ওই দিন বিকেল তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। রক্তচাপও কমে যায়। এর মধ্যেই সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় হার্ট অ্যাটাক হয়।

পরিচিতি-

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান ১৯৬৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঝালকাঠির নলছিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন ১৯৮৮ সালে।

দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতায় থাকা মিজানুর রহমান খান ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত যুগান্তর–এর বিশেষ সংবাদদাতা ও সহকারী সম্পাদক ছিলেন। এরপর সমকাল–এর উপসম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। প্রথম আলোয় যোগ দেন ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের সপক্ষে জনমত গঠনে তিনি ভূমিকা পালন করেন। তিনি বইও লিখেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক’ (১৯৯৫), ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের স্বরূপ’ (২০০৩), ‘১৯৭১ আমেরিকার গোপন দলিল, মার্কিন দলিল।

 

Developed by :