Friday, 22 January, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন অর্থকষ্টে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সচিব

বিডি মিত্র ও তার বাড়ি

বার্তা ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সচিব বিডি মিত্র স্বেচ্ছায় অবসর নেন ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। এরপর দেশ ছাড়েন তিনি। এখন উত্তর আমেরিকাই তার ঠিকানা। তবে তিনি কখনো থাকেন নিউইয়র্কে আবার কখনো টরন্টোতে।

পেনশনের টাকা উত্তোলনের আবেদনে নিজেকে অর্থকষ্টে থাকা গরীব অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বিডি মিত্র।

অথচ তার স্ত্রী রাখি মিত্রের নামে নিউইয়র্কে তিনটি বাড়ি আর টরেন্টোতে দুটি বাড়ির খোজ পাওয়া গেছে। ২ মিলিয়ন ডলার নগদ পরিশোধ করে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এবং ফরেস্ট হিলে তিনটি বাড়ি কিনেছেন বিডি মিত্র। কানাডার টরন্টোতে ৩ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার দিয়ে বাড়ি কিনেছেন দুটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে নাসির আলী খান পলের কাছ থেকে প্রথম বাড়ীটি কেনেন বিডি মিত্র। ৭৬০,০০০ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করে কেনেন তিনি। বাড়ির ঠিকানা ৮৭-৩০ ১৬৯ স্ট্রিট কুইন্স। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। পরে আরও একটি বাড়ি কেনেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যামাইকাতে। সেটাও ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। দ্বিতীয়বার নগদ ৭৮৫,০০০ ডলার  পরিশোধ করে কেনেন আরেকটি বাড়ি। ওই বাড়ির ঠিকানা (৮৫-২৭, ১৬৮ প্লেস, জ্যামাইকা)। পরে ছয়বছরের মাথায় ২০১৮ সালে ১১৩-৮১ এভিনিউ কিউ গার্ডেনস ঠিকানার তৃতীয় বাড়ি কেনেন তিনি।  ২০১৮ সালের ১২ জুন ইয়েলেনা সেডিনার কাছ থেকে ওই বাড়ি কেনা হয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার ডলারে।

২০১৭ এর নভেম্বরে অবসর গ্রহণের মাত্র দুমাসের মধ্যে কানাডার টরন্টোতে কেনেন ১৪ লাখ ডলার (কানাডিয়ান) দিয়ে একটি বাড়ি।

সর্বশেষ গত বছর টরেন্টোতেই ৯ লাখ কানাডিয়ান ডলার দিয়ে কিনেছেন আরও একটা বাড়ি।

হবিগঞ্জের বিডি মিত্র ১৯৮৬ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ২০১২ সালে তদবির করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ইকোনমিক মিনিস্টার পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে দেশে এসে তিনি খাদ্য বিভাগে ভারপ্রাপ্ত সচিব হন। চাকরি জীবনে যেখানেই গেছেন সেখানেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। কিন্তু এসব অভিযোগের পরও তিনি সচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়েছেন।

 

Developed by :