Thursday, 21 January, 2021 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সিলেট জেলা আ’লীগের প্রস্তাবিত কমিটির পক্ষে-বিপক্ষে কেন্দ্রে যত অভিযোগ

ছাদেক আহমদ আজাদ

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সকল পর্যায়ের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চলছে সরব আলোচনা। প্রস্তাবিত কমিটিতে নাম রয়েছে এমন বেশক’জন নেতার ব্যাপারে কেন্দ্রে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক বলেন, বিক্ষুব্ধ নেতাদের আকাংখা ও অভিযোগের কথা আমরা শুনেছি। তদন্তে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে অবগত করা হবে। তিনি বলেন, আগামী মাসে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে।

গত দু’মাসে কমপক্ষে ১৫ জন নেতার বিরুদ্ধে ৩৫-৪০টি অভিযোগ কেন্দ্রে জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘রাজাকারের সন্তান, জামায়াত-শিবিরের আশ্রয়দাতা, অনুপ্রবেশকারি, হাইব্রিড, দুর্নীতিবাজ ও বিএনপি পরিবারের লোক’ ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয় কেন্দ্রীয় হাইকমাণ্ড।

অভিযোগের সিংহভাগই রাজনৈতিক আক্রোশপূর্ণ। কেন্দ্রের ছায়া তদন্তে ইতোমধ্যে তা পরিস্কার হয়েছে। তবে, কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে । শিগগিরই দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলা আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলার প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে কেন্দ্রে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছিলেন তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। এছাড়া তিনি কমিটি গঠনে অনুপ্রবেশকারি, বিতর্কিত ও হাইব্রিড নেতাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। সিলেট জেলার প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পুরোপুরি মেনে করা হয়েছে- এমন দাবি দায়িত্বশীল নেতাদের। এরপরও প্রস্তাবিত কমিটিতে ব্যাপক রদবদল, না জেলার দেওয়া কমিটি অনুমোদন করবেন শেখ হাসিনা তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দলের অসংখ্য নেতাকর্মী।

জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় শেখ হাসিনা সিলেটসহ সারাদেশের সম্মেলন হওয়া জেলা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ওই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত কমিটি তৈরী করেন। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর এ দু’নেতা তা কেন্দ্রে প্রেরণ করেন।

এতে বিগত কমিটির সিংহভাগ নেতাদের সাথে কমবেশি আরো ১৫ নতুন মুখ যোগ হয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির খান বলেন, নবীন এবং প্রবীণের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত এ কমিটি দলকে শক্তিশালী এবং বিরোধী দলের যেকোন নৈরাজ্য মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। এ কমিটিতে কোন চিহ্নিত অপরাধীদের রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় জেলার দু’দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করে দল পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি হলে দল অতীতের চেয়ে আরো গতিশীল হবে এবং বিতর্ক থাকবে না।

জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রুহেল এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম। এজন্য প্রস্তাবিত কমিটিতে আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক-২ পদে রেখে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে অনেকের মতো আমিও সংক্ষুব্ধ, বিক্ষুব্ধ।’ তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বাদ দেয়া না হলে সিলেটে দুর্বৃত্তের রাজনীতি শুরু হবে, যা আমরা চাইনা।’

সাইফুল ইসলাম রুহেল আরও বলেন, ‘আমি পারিবারিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সদস্য। অথচ, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে আমার বিরুদ্ধে কেন্দ্রে অভিযোগ দেয়া হয়েছে, যা সমীচীন নয়।’

এদিকে, প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে সম্প্রতি জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদের আওয়ামী লীগের কমিটিতে পুনর্বাসন করতে চাইবেন, আর আমি শফিক তাতে সায় দিব। তা কখনো হবে না।’ তার এ বক্তব্যের পর ক্ষুব্ধ নেতাদের অনেকটা ফুরফুরে দেখা যায়।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া এ সংগঠনে যোগ্য নেতাকর্মীর অভাব নেই। কিন্তু কমিটিতে মাত্র ৭৫ জনকে স্থান দিতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা কমিটিতে ব্যক্তি আক্রোশে কাউকে বাদ দেইনি। তিনি দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। প্রকাশ: দৈনিক সিলেটের ডাক

 

Developed by :