Tuesday, 1 December, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




সামরিক বাহিনীর উজি পিস্তল ঢাকার দোকানে

বার্তা ডেস্ক: দেশের বৈধ অস্ত্রের দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বিক্রয় নিষিদ্ধ উজি পিস্তল। যা বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে। সম্প্রতি বেশ কিছু ব্যক্তি এ ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র কিনে ব্যবহার করছেন। গত ৫ বছরে দেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান রাইফেল আমদানির নামে এই অস্ত্রগুলো আমদানি করেছে।

শুধু তাই নয়, এসব অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র পৌঁছে গেছে মাদককারবারিদের হাতেও। বিষয়টি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যই নয়, পুরো দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নেই উদ্বেগের।

পয়েন্ট টুটু বোরের অত্যাধুনিক অস্ত্র। নাম উজি পিস্তল। বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই অস্ত্র। ইসরায়েলে তৈরী সেমি-অটোমেটিক এই অস্ত্রে রয়েছে ২০ রাউন্ডের ২ টি ম্যাগাজিন। যা বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে নেই।

নিষিদ্ধ এই অস্ত্রটি গত ৫ বছরে ৬ টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আমদানি করেছে। যা কোন কোন বাহিনীর জন্য নয়, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য, তাও বৈধ পন্থা অনুসরণ করে। এদিকে আমদানি করা ১০৯ টি উজি পিস্তলের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে ৫৪ টি অস্ত্র।

গত ২০ আগষ্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মাদক কারবারীকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে উজি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। লাইসেন্সে বর্ণিত অস্ত্রের সঙ্গে প্রাপ্ত অস্ত্রটির সাদৃশ্য না থাকায় ডিবি পুলিশ অস্ত্র ও লাইসেন্সের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য এ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের কাছে অস্ত্রটি প্রেরণ করে। বিশেষজ্ঞের মতামতে বলা হয়, উজি পিস্তল সেমি অটোমেটেড হওয়ায় সেটি ক্রয়যোগ্য নয়। এটি মিলিটারি গ্রেডের একটি অস্ত্র। বেলজিয়ামের আর্মড ফোর্স এবং ইসরায়েলের ডিফেন্স ফোর্সে অস্ত্রটির বহুল ব্যবহার রয়েছে। এটি এ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের চেয়েও আধুনিক।

তবে অস্ত্র আমদানিকারকরা বলছে, বাংলাদেশে উজির যে পিস্তলটি বিক্রি করা হচ্ছে তা মূলত রেপলিকা। মূল অস্ত্রের থেকে এর ক্ষমতাও কম। এই অস্ত্রগুলো দেশেও আনা হয়েছে সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে।

আর্মস ডিলার এসোসিয়েশন সভাপতি বলেন, সরকার থেকে এই আর্মস বিক্রিতে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিলো না। যদি আমাদের কাছে এ ধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা থাকতো তাহলে আমরা সেটাই ফলো করবো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিদের হাতে অত্যাধুনিক এ অস্ত্রটি পৌঁছে গেলে দেশের যে কোথাও যেকোনো সময় ভয়াবহ এক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ইতোমধ্যে মাদককারবারিদের কজ্বায় চলে গেছে এসব অস্ত্র। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে তাদের।

তেজগাঁওয়ের গোয়েন্দা উপ-কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, এটা মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র। সাধারণত সিভিলিয়ানদের কাছে বিক্রি হয় না। পয়েন্ট টুটু বোরের রাইফেল যেহেতু তাদের আমদানি করার সুযোগ ছিলো। তার আদলে এটা আমদানি করা হয়েছে। এটা যদি জঙ্গিদের কাছে চলে যায়; তাহলে তো আমাদের জন্য হুমকি।

দেশে বর্তমানে ৮৪ টি বৈধ অস্ত্র ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই রয়েছে ৩২ টি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া দেশের মোট ১৪ টি প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করতে পারে।

 

Developed by :