Tuesday, 1 December, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




রায়হান হত্যা: এসআই আকবর-হাসান একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

 

সিলেট: সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বরখাস্ত বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করেন একই ফাঁড়ির টু-আইসি হাসান। হাসানের সরাসরি সহযোগিতায় আকবর পালিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটি। এছাড়া এ ঘটনায় মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার গাফিলতির প্রমাণও পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মো. আয়ুব মঙ্গলবার পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহমদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে ঠিক এই মুহূর্তে বলা যাবে না। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ঘটনায় কারো দায় থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আকবরকে পালাতে সরাসরি সহায়তা করেছেন বন্দর বাজার ফাঁড়ির টু-আইসি এসআই হাসান। রায়হানের মৃত্যুর ঘটনার পরদিন ১২ অক্টোবর বিকেলের দিকে একটি এক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এসএমপির সিটি এসবির এক সদস্যের কাছে জানতে চাওয়া হয় আকবরকে কখন গ্রেফতার করে রিজার্ভ অফিসে আনা হবে। এটা শোনার পরই সেই সিটি এসবি সদস্য ফোন করেন এসআই হাসানকে। হাসান সেই তথ্য তাৎক্ষণিক আকবরকে সরবরাহ করেন। ৩টা ৫৬ মিনিটে বন্দর ফাঁড়িতে হাসানের কাছে অস্ত্র, ওয়্যারলেস সেট ও মোবাইল সিম হস্তান্তর করে আকবর বেরিয়ে যায়। কিন্তু হাসান এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান সন্ধ্যা ৬টার দিকে।

সূত্র জানায়, সদর দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির আগে এসএমপির তদন্তেও প্রাথমিকভাবে রায়হানের মৃত্যুর সঙ্গে এসআই আকবরের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপরও কেন তাকে পুলিশ লাইনে হেফাজতে নেয়া হয়নি এ বিষয়টি তদন্তের মূল ইস্যু ছিল। তাকে বরখাস্তের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে কেন হেফাজতে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়নি। পালিয়ে যাওয়ার আগে আকবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতেই ছিল। কেন তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়নি। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, এসব সিদ্ধান্ত নিতে যারা গড়িমসি করেছেন তাদেরকেই দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাতেন কেন আকবরকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক রাখেননি সে বিষয়েও প্রশ্ন আছে।

গত ১১ অক্টোবর সিলেট বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঘটনায় পরদিন ১২ অক্টোবর প্রধান সন্দেহভাজন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকেই আকবর পলাতক। এ ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিলেও আকবরকে নেয়া হয়নি। কেন তাকে নেয়া হয়নি, কে তাকে পালানোর সুযোগ দিয়েছে তা চিহ্নিত করতে সদর দফতরের এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মোহাম্মদ আয়ুবকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দফতর।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন, সিলেট জেলা পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি মো. মাহবুবুল আলম ও এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মুনাদির ইসলাম চৌধুরী।

 

Developed by :