Thursday, 29 October, 2020 খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ |




রায়হানের দেহে শতাধিক আঘাতের চিহ্ন, হয়েছিলো ইন্টারনাল ব্লিডিং!

বার্তা ডেস্ক ::সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের (৩৪) দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী- এসবের মধ্যে ৯৭টি লীলাফোল আঘাত ও ১৪টি ছিলো জখমের চিহ্ন। আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে।

সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছে। ফরেনসিক এই রিপোর্টটি পিবিআই’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রিপোর্টের ভিত্তিতে জানা গেছে, রায়হানের শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণে দেহের ভেতর রগ ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। আঘাতে দেহের মাংস থেতলে যায়। রগ ফেটে গিয়ে আন্তঃদেহে রক্তক্ষরণ (ইন্টারনাল ব্লিডিং) হয়। আর অতিরিক্ত আঘাতে মুর্ছা যান রায়হান। আঘাত করার সময় রায়হানের স্টমাক ছিল খালি, স্টমাকে ছিল কেবল এসিডিটি লিকুইড।

উল্লেখ্য, গত রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর রাতে নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার যুবক রায়হান আহমদকে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর  মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে ১২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর আকবরসহ ৪ পুলিশকে বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর বিকেল থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন।

বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন আর পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। গত বৃহস্পতিবার মরদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীবার ময়না তদন্ত করে পিবিআই। ওইদিনই শেষে বিকেলে আবার আখালিয়া নবাবী মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে রায়হানের মরদেহ ফের দাফন করা হয়।

 




সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :